ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

রাঙামাটি শহরে শিশু শ্রম বন্ধে জেলা প্রশাসন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন

প্রকাশ: ২০১৭-০১-১৮ ১১:০১:০২ || আপডেট: ২০১৭-০১-১৮ ১১:০১:০২

রাঙামাটি শহরে শিশু শ্রম বন্ধে জেলা প্রশাসন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন

নির্মল বড়ুয়া মিলন :: রাঙামাটি পার্বত্য জেলা শহরে ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে শিশু শ্রম। রাঙামাটি শহরে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা আসবাব পত্র তৈরীর কারখানায় কাজ শেখার নামে এই শিশু শ্রমিকরা বিভিন্ন আসবাব পত্রের ফুল তৈরীর কারখানা, আসবাব পত্র তৈরীর কারখানা থেকে শুরু করে ওয়েল্ডিংয়ের ওয়র্কশপ, ইটের ভাটা, লঞ্চ, জ্বালানী তেল বিক্রয়ের দোকান, নির্মান শ্রমিক, আবাসিক হোটেল ও হোটেল রেষ্টুরেন্টের কাজসহ গ্যারেজে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় কাজ করছে।

১৯৮৯ সালে জাতি সংঘ ১৯৩টি দেশের মধ্যে ১৯১টি দেশের অনুমোদন সাপেক্ষে বিশ্ব ব্যাপি শিশু অধিকার সনদ পাশ করে জাতি সংঘ, এই সনদে ৫৪টি ধারা রয়েছে। জাতি সংঘের শিশু অধিকার সনদের সংজ্ঞা অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪৮ ভাগ এদলে রয়েছে। ১৯১টি দেশের অনুমোদনকারি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দেশের এই আইন অমান্য করে শিশুদের শ্রমিক হিসাবে ব্যবহার করছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায়ও।

এব্যাপারে উদাসিন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং রাঙামাটি জেলা প্রশাসন এর নাই কোন নজরদারি।

১৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাঙামাটি শহরে অনুসন্ধানে জানা যায়, রাঙামাটি শহরে প্রায় চার’শ এর অধিক ফার্নিচারের দোকানে প্রায় একহাজারের অধিক শিশু শ্রমিক কাজ করছে। এসব শিশুরা আসছে দেশের চট্টগ্রাম, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে। শিশু শ্রমিকরা শুধু শ্রমিকই থাকছে না, উপযুক্ত অনুশাসন এর অভাবে এরা অভ্যস্থ হচ্ছে বিড়ি সিগারেটসহ নানা মাদক দ্রব্য গ্রহন ও উশৃংখল জীবন যাপনেও। এসব শিশু শ্রমিকদের কর্মস্থলে নাই কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা। অত্যন্ত অল্প পুঁজিতে শ্রম বিকিয়ে দেওয়া এই শিশুরা জীবনের স্বাভাবিক গতিচ্যুত হয়ে এরা শ্রমিক জীবনকে স্বাভাবিক মেনে নিয়েছে। এই শিশুদের এতটাই অন্ধকার দেওয়া হয়েছে যে পুর্ণ সহযোগিতা দেওয়া হলেও পড়ালেখায় ফিরবে না বলে জানায় শহরের কলেজ গেইট এলাকার ফার্নিচার কারখানায় কর্মরত জামাল, রিপন, আলমসহ কয়েকজন শিশু শ্রমিক। স্কুলের আঙিনা ছুঁতে না পারা এই শিশুরা খেলাধুলা নয় শ্রমিক জীবনটাই উপভোগ করতে অভ্যস্থ হচ্ছে।

বাংলাদেশে তথা সারা বিশ্বে শিশু শ্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ থাকা সত্বেও শিশু অধিকার আইন লঙ্গন করে শিশুদের শ্রমিক বানিয়ে শিশু নির্যাতনে আরেক রুপ দিয়েছেন স্বয়ং শিশু শ্রমিকদের পিতা-মাতারা। এমনতাই দাবি করেছেন কয়েকজন ফার্নিচার কারখানার শিশু শ্রমিক নিয়োগকর্তা ও রেষ্টুরেন্টের মালিক। ফার্নিচার কারখানার কয়েকজন মালিক সিএইচটি মিডিয়াকে বলেন, অসহায় গরিব পিতামাতারা তাদের শিশুদের শুধুমাত্র দু’বেলা খাবারের বিনিময়ে কাজ শেখানোর জন্য কারখানায় রেখে যান, সুহানুভুতি দেখাতে গিয়ে আমরাও শিশুদের কাজে রাখছি, এতে করে কোমলমতি শিশুরা খেলাধুলা ও লেখাপড়া ছেড়ে শিশু শ্রমিক হয়ে পরছে। বয়স কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে এরা নিয়োগকর্তার কথা শুনে এবং সবসময় বাধ্য থাকে।

রাঙামাটি শহরে শিশু শ্রমিক বৃদ্ধির বিষয়ে জেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আলম সিএইচটি মিডিয়াকে বলেন, অল্প পুঁিজতে বাধ্য ও অধিক কর্ম সম্পাদনকারী পায় বলে নিয়োগকর্তারা শিশু শ্রমিকদের লুপে নিচ্ছে, অপরদিকে গরিব, অসচেতন পিতা মাতারা আগে-পিছে না ভেবে নিজেদের সন্তানদের এসব ঝুঁকিপুর্ণ কাজে পাঠাচ্ছে।

রাঙামাটি শহরে শিশু শ্রম বন্ধে করণীয় বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গ্যানাইজেশন (আইএলও)’র বাংলাদেশের জাতীয় কনসালটেন্ট ফিরোজ আলম মোল্লা সিএইচটি মিডিয়াকে বলেন, প্রথমত শিশুর পিতামাতাকে সচেতন করতে হবে, শিশুর নিয়োগকর্তাকে বোঝাতে হবে এরপরও যদি কোন শিশু শ্রমিক নিয়োগকর্তা শিশুদের শ্রমিক হিসাবে নিয়োগ করে তাহলে সরাসরি ম্যাজিষ্ট্রেট এর মাধ্যমে আইন প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে শিশু শ্রমিককে অভিবাবক অথবা সরকারী হেফাজতে নিয়ে পুনর্বাসন করে লেখা পড়া ও অন্যান্য কারিগরি জ্ঞান দিয়ে শিশুর ভবিষ্যত সফল করা যেতে পারে।

শিশু শ্রম বন্ধে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সহযোগিতা চেয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।