ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

কোটবাজার প্রাইভেট হাসপাতালে ৬ ঘন্টার ব্যবধানে ৩ রোগীর মৃত্যু !

প্রকাশ: ২০১৭-০১-১৭ ২৩:৩৯:৫৭ || আপডেট: ২০১৭-০১-১৮ ০০:১৪:৪৩

কোটবাজার প্রাইভেট হাসপাতালে ৬ ঘন্টার ব্যবধানে ৩ রোগীর মৃত্যু !

জসিম আজাদ::
উখিয়ায় সরকারী অনুমোদন বিহীন প্রাইভেট ক্লিনিকে একদিনে ৩ রোগীর মৃত্যু হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৭ জানুয়ারী কোটবাজারস্থ অরিজিন হাসপাতালে এ লোমহর্ষক মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি সিন্ডিকেটের আদলে কোটবাজারস্থ অরিজিন হাসপাতাল নামে প্রাইভেট ক্লিনিক খুলে রোগীদের সেবার নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। ২/১ জন ডাক্তার দিনে চেম্বারে রোগী দেখলেও নামমাত্র একজন হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে দীর্ঘদিন যাবত।

মঙ্গল বার জালিয়াপালং ইউনিয়নের লম্বরী পাড়া গ্রামের নবী রহমানের ছেলে জাফর আলম (৪৫) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কোটবাজারস্থ অরিজিন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয় বিকাল ৫ টার দিকে। প্রায় ১ ঘন্টা ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে সময় ক্ষেপন করে অবশেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাফর আলমের বুকের সমস্যা চিহ্নিত করে ডাক্তার। এর কিছুক্ষণ পরই জাফর আলম অরিজিন হাসপাতালে মারা যায়। এ সময় জাফর আলমের স্ত্রী, পুত্র, ভাই-বোন ও আত্নীয় স্বজনের আহাজারিতে কোটবাজারস্থ তোফাইল মার্কেটের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। এমন কি উচ্চ স্বরে তার স্ত্রী ছেলে মেয়েরা বিলাপ করতে থাকে। কোথায় চিকিৎসার জন্য তাদের পিতাকে নিয়ে আসা হয়েছে এমন প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। এছাড়াও প্রাইভেট এ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের সেবা সহ নানা অভিযোগ ছিল। জাফরের পিতা নবী রহমান বলেন, ভুল চিকিৎসার কারণে তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একই দিন একই হাসপাতালে সকালে ১ জন ৪ মাস বয়সের শিশু ও দুপুরে অজ্ঞাত আরো একজন রোগী মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ ঘটনা নিয়ে দিনভর কোটবাজার স্টেশন জুড়ে খবরটি ছিল মানুষের মুখে মুখে। এ দিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, জাফর মারা যাওয়ার পরপরই  পুরো অরিজিন হাসপাতাল জুড়ে হইচই পড়ে যায়। ডাক্তার, পরিচালকবৃন্দ ও কর্মচারীরা দিক বেদিক পালাতে থাকে। খবর পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশের ওসি মোঃ আবুল খায়ের ঘটনাস্থল  পরিদর্শন শেষে ভুল চিকিৎসায় একদিনে একাধিক রোগী মারা যাওয়ার সত্যতা পান। রহস্য জনক কারণে অনুমোদনবিহীন এ হাসপাতাল জব্দ কিংবা সীলগালা না করে ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যান। পুলিশের এ ধরণের আচরণে অনেকেই ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে ওসি মোঃ আবুল খায়ের জানান, রোগীর কোন স্বজন অভিযোগ না দিলে আমি কিভাবে ব্যবস্থা নিতে পারি।