ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২

ভোর রাতে ৮ ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব

প্রকাশ: ২০১৭-০১-১৭ ১৮:১২:৩৩ || আপডেট: ২০১৭-০১-১৭ ১৮:৫২:০৬

ভোর রাতে ৮ ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব

আনোয়ার হোছাইন, ঈদগাঁও ::
কক্সবাজার সদরের ঈদগাওয়ের ৮ ইট ভাটায় কয়লার আড়ালে বনের কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব চলছে । স্থানীয় বনবিভাগ রহস্যজনক কারণে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা ।

জানা যায়, বৃহত্তর ঈদগাঁয়ের চৌফলদন্ডীতে ১টি , জালালাবাদে ২টি, ঈদগা্ওঁয়ে ৩টি, ইসলামাবাদে ২টিসহ মোট ৮টি ইট ভাটায় চলতি ইট মৌসুমের শুরু থেকেই পাশ্ববর্তী সংরক্ষিত সামাজিক বনায়নের কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব চলে আসছে ।

বিভিন্ন সুত্রে প্রকাশ, ইট ভাটা মালিকরা মৌসুমের শুরুতেই বৃহত্তর ঈদগা্ওঁয়ে কক্রবাজার উত্তর বনবিভাগের অধীন অর্ধ ডজনাধিক বনবিট যথাক্রমে কালির ছড়া , মেহের ঘোনা, ভোমরিয়া ঘোনা, রাজঘাট,নাপিতখালি ও  ফুলছড়ি বনবিটের  রেণ্জ কর্মকর্তাদের এককালীন ও মাসিক মোটা অংকের টাকায় ম্যনেজ করে দিনের পর দিন কয়লার আড়ালে পরিবেশ বিধ্বংসি কাঠ পোড়ানোর উৎসব অব্যাহত রয়েছে । এছাড়া স্থানীয় পুলিশক্ওে নিয়মিত মাসোহারা দেয় এসব ভাটা মালিকরা । অপরদিকে এসব কাঠ যোগান দিচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু কাঠ পাচারকারী । এ বনদস্যুর্ওা বনবিট ও পুলিশকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে অল্প পরিমাণ টিপির কাঠ বা লাকড়ীর দোহাই দিয়ে হাজার হাজার ফুট বনজ সম্পদ পাচার করে আসছে প্রতিনিয়ত । সন্ধ্যার আধার ঘনিয়ে আসলেই রাত ব্যাপি চলে ট্রাক, ডাম্পার ও চান্দের গাড়ি যোগে কাঠ পাচার প্রতিযোগিতা। বনদস্যুদের অব্যাহত কাঠ পাচারে সংরক্ষিত উজাড় বললেই চলে । পাশাপাশি সামাজিক বনায়ন্ও রক্ষা পাচ্ছে না এসব অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে উপকারভোগিদের অভিযোগ । একাধিক ভাটা মালিকের  সাথে কথা হলে তারা উক্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন কয়লার আগুনে তারা ইট পোড়াচ্ছেন । অপরদিকে এক ভাটা ম্যানেজারের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বনবিভাগ, পুলিশসহ উর্ধতন প্রশাসনকে আগের মত মোটা অংকের টাকা দিয়ে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে । চাপে পড়ে যদি কোন সময় অভিযান চালায় ঐসময় যাতে ধরা না পড়ে ভাঠা থেকে একটু দুরে কাঠের ডিপো করা হয়েছে । ভোর রাতেই ওখান থেকেই ভাটার চুল্লিতে লাকড়ি সরবরাহ করা হয় । কয়লা রাখা হয় লোক দেখানো মাত্র । উক্ত অভিযোগের বিষয়ে এক বিট কর্মকর্তার সাথে কথা হলে নাম না ছানোর শর্তে বলেন,তার একার করার কিছ নেই । উর্ধতন কর্মকর্তার্ওা এতে জড়িত । সচেতন মহল জানান, অচিরেই স্বল্প সংখ্যক বনজ সম্পদ রক্ষার উদ্যোগ নেয়া না হলে এসব ভাটা ও বনদস্যুদের পেটে চলে যাবে অবশিষ্ট বনজসম্পদ । তাই সময় থাকতেই ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় কর্মকর্তার হস্থক্ষেপ জরুরী ।