ঢাকা, শুক্রবার, ১ জুলাই ২০২২

উখিয়ায় শীতকালীন সবজিতে ভরপুর : দাম নাগলের বাইরে

প্রকাশ: ২০১৭-০১-১৬ ২০:৩৭:৫৫ || আপডেট: ২০১৭-০১-১৬ ২০:৩৭:৫৫

উখিয়ায় শীতকালীন সবজিতে ভরপুর : দাম নাগলের বাইরে
জসিম আজাদ::
উখিয়া উপজেলার ছোট বড় ১৩টি হাট বাজারে শীতকালিন শাক সবজির ক্রয় ক্ষমতা জনসাধারনের নাগালের মধ্যে থাকলেও কিছু কিছু সবজির দাম এখনো আঁকাশ ছোঁয়া। ফলে জনসাধারণ বেশি দামে সবজি ক্রয় করে চাহিদা মিটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। একশ্রেণীর বাজার কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট কারসাজির আশ্রয় নিয়ে এসব বাজার গুলোতে নিয়মিত নৈরাজ্য ও বিশৃংখলা সৃষ্টি করছে। টোল আদায়ের নামে একদিকে ইজারাদারের খবরদারি, অন্যদিকে সিন্ডিকেটের মারপ্যাচে পড়ে ভোক্তা ও ক্রেতা সাধারণ দারুণভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানায়, বাজার উন্নয়নের নামে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করা হলেও বাস্তবে বাজারগুলোতে সিঁকি পরিমানও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বরং কোটি কোটি টাকা আদায়কৃত রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা করার পরিবর্তে সংশ্লিষ্টরা এক প্রকার লুটপাট করে নিচ্ছে এসব আদায়কৃত অর্থ। বিভিন্ন অজুহাতে সরকারি কর্মকর্তারা বাজারের বিপুল পরিমান রাজস্ব আতœসাত করে আসলেও উর্ধ্বতনের তদারকির অভাবে দুর্নীতির সাথে জড়িতরা পার পেয়ে যাচ্ছে।

সুত্র মতে, বাজার ইজারা দিয়ে পাওয়া সমুদয় অর্থ সরকারি কৃষি ব্যাংকে জমা করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এসব অর্থ ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন অজুহাতে ব্যয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন একটি নজির বিহীন দুর্নীতির দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন উখিয়া বদলী হয়ে যাওয়া জনৈক ইউএনও। যা তদন্ত করলে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন হবে।

সরজমিনে উখিয়ার বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, উখিয়া সদরের দারগা বাজার নিয়ন্ত্রন করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। সরকারের নিকট থেকে বাজার ইজারা নিয়ে তা আবার দ্বিগুণ টাকায় উপ ইজারা দিয়ে মরার উপর খঁড়ার ঘাঁ’র মত অবস্থার সৃষ্টি করছে কথিত সিন্ডিকেট। তারা ইচ্ছা মত বাজারে আসা ক্রেতা সাধারণকে ঠকিয়ে রীতিমত পকেট কাটছে শাকসবজি বিক্রেতারা। তাছাড়াও উপ ইজারাদারদের টোল আদায়ের জন্য নিয়োগকৃত দালালেরা ছোট বড় ব্যবসায়ী বা সড়কের উভয় পাশে বসা ভ্রাম্যমান হকারদের কাছ থেকে দ্বিগুণ হারে জোর পূর্বক অর্থ আদায়ের নামে সুকৌশলে চাঁদা আদায় করে চলছে। যা ভোক্তা ও ক্রেতা সাধারণের জন্য বিষপোঁড়ায় পরিনত হয়েছে বলে একাধিক ক্রেতাদের অভিযোগে জানা গেছে।

উখিয়া দারগা বাজারের মত অন্যান্য বাজারগুলোতেও চলছে একই অবস্থা। তৎমধ্যে বাণিজ্যিক স্টেশন কোটবাজারে সবচেয়ে বেশি নৈরাজ্য ও বিশৃংখলা হয়। এখানে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী মহল বাজার ইজারা নিয়ে ছোট বড় শাক সবজি বিক্রেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদেরকে জিম্মি করে ফেলেছে বলেও অভিযোগ উঠছে। সোনারপাড়া বাজার, মরিচ্যা বাজার, পাতাবাড়ি বাজার, কুতুপালং বাজার, পালংখালী বাজার, থাইনখালী বাজার, বালুখালী সহ অন্তত ১৩ টি ছোট বড় হাট বাজারে ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট শাক সবজি ও কিছু কিছু পন্যের গলা কাটা অর্থ আদায় করছে। তৎ মধ্যে দেশি আলুর মূল্য এখনো ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি, টমেটো, বাধাকপি, সীম, শসা, মিষ্টি কুমড়া, লাউসহ বিভিন্ন প্রকার শীতকালিন সবজি দাম এখনো ক্রেতা নাগালের বাইরে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, বাজার নিয়ন্ত্রনের জন্য উপজেলা পর্যায়ে একটি প্রশাসন রয়েছে এবং সরকারি বিধি নিষেধসহ কিছু নীতিমালা রয়েছে ক্রেতা সাধারণের সুবিধার্থে। কিন্তু এখানকার প্রশাসনের চরম উদাসীনতা, কর্তব্য অবহেলা, অনিয়ম দুর্নীতি, বাজার সিন্ডিকেটদের সাথে যোগসাজস করে আইন অমান্য করে চলছেন। ক্রেতাদের জন্য নিদিষ্ট মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির অনুসরণ করার জন্য সাইন বোর্ড টাঙানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু উখিয়ার বাজার গুলোতে এসব সরকারি নিয়ম নীতির কোন বালাই নেই।

স্থানীয়রা জানান, সোনারপাড়া বাজারে অতিরিক্ত টোল আদায় নিয়ে ইজারাদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরোধের জের ধরে গত ১৫ জানুয়ারী সংশ্লিষ্ট বাজার ইজারাদারের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিনের  নিকট একটি অভিযোগ দিয়েছেন রতœাপালং গ্রামের বিশিষ্ট ঠিকাদার ছাবের আহমদ।

তেলীপাড়া গ্রামের সোনা মিয়া জানান, সোনারপাড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতি ও ইজারাদার আতাঁত করে মোটা অংকের টাকার টোল আদায় করার নিমিত্তে ১ জানুয়ারী থেকে একটি নতুন নিয়ম চালু করেছে। তাদের এই নিয়ম মানতে ব্যবসায়ীরা কিছুতেই রাজি হচ্ছে না। ফলে ছোট খাট অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চলছে। যে কারণে ব্যবসায়ীদের পরিবার পরিজন নিয়ে অভাব অনটনে দিনযাপন করতে হচ্ছে।

জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম ছৈয়দ আলম জানান, এ ধরনের প্রায় ঘটনা বাজার গুলোতে ঘটে চলছে।

এ প্রসঙ্গে কোটবাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আদিল উদ্দিন চৌধুরীর নিকট জানতে চাইলে সরকারি ভাবে বাজার নিয়ন্ত্রন আইন ভঙ্গ না করলে বাজার উন্নয়নের পাশাপাশি শৃংখলা ফিরে আসতো বলে তিনি জানান।

উখিয়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ একরাম বলেন, বিশেষ করে দারগা বাজারে টোল আদায়ের নামে একপ্রকার টাউট, বাটপার ও চাঁদাবাজাদের দৌরাতœ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণে বাজারে প্রতি নিয়ত বিশৃংখলা লেগে থাকে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, এ ধরণের ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রশাসন সরকারিভাবে মূল্য তালিকা টাঙানোর নির্দেশ প্রদান করা হয়। তাছাড়া ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের নিয়ে বাজারে শৃংখলা ফেরাতে একটি বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।