ঢাকা, শুক্রবার, ১ জুলাই ২০২২

মহেশখালীতে গণশুনানীতে অংশগ্রহণ করলেন দুদক কমিশনার ॥

প্রকাশ: ২০১৭-০১-১৫ ২৩:৪৬:১৬ || আপডেট: ২০১৭-০১-১৫ ২৩:৪৬:৪৪

মহেশখালীতে গণশুনানীতে অংশগ্রহণ করলেন দুদক কমিশনার ॥

আবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার::

দূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ সরকারী সফরে ১৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯ ঘটিকার সময় মহেশখালী এসে পৌছেন। পরে সকাল ১০ ঘটিকার সময় দুদুক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদের নের্তৃতে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি/সততা সংঘ/সুশীল সমাজ ও মিডিয়ার সমন্বয়ে আয়োজিত দুর্নীতি বিরোধী র‌্যালী ও মানবন্ধন উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। মানবন্ধন ও র‌্যালী শেষে স্কুল ছাত্র মো: ইয়াছিনের কোরান তেলাওয়াত ও ছাত্র-ছাত্রীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো: আবুল কালামের সভাপতিত্বে উপজেলা টিটিসি হলে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো:আলী হোসেন,উপজেলার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোছাইন ইব্রাহীম,পৌর মেয়র মকছুদ মিয়া,পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরী,দুর্নীতি কমিশন দুদকের চট্রগ্রামের পরিচালক আবু সাঈদ, উপজেলার দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডা:নুরুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক ডা: ফিরোজ খাঁন প্রমূখ।

আলোচনা সভা শেষে উপজেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের জনসেবা নিয়ে  এক গণশুনানী অনুষ্টিত হয়। উক্ত গণশুনানী অনুষ্টান পরিচালনা করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক এডিসি সার্বিক আনোয়ারুল নাসের। উক্ত গণশুনানীতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকজন অংশ গ্রহণ করেন বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের জনসেবার বিষয় এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা দুদক কমিশনারকে অবহিত করেন।

মহেশখালী উপজেলার ভুমি অফিস:-

জাফর আলম নামের এক ব্যক্তি উপজেলা ভুমি অফিসের জনসেবা নিয়ে অভিযোগ করে বলেন দীর্ঘদিন যাবৎ আমার একটি ভুমিহীন বন্দোবস্তির ফাইল উপজেলা ভুমি অফিসে আটকে রয়েছে। তার প্রতি উত্তরে দুদক কমিশনার ড.নাসিরউদ্দীন আহমেদ তাৎক্ষণিক অতিদ্রুত সময়ের মধ্য যাচাই বাচাইয়ের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করার জন্য সহকারী কমিশনার(ভুমি) কে নির্দেশ প্রদান করেন এবং ভুমি অফিসকে দালাল র্নিমুল করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে আদেশ দেন। জনসাধারণের দুর-গোড়ায় সেবা পৌছে দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি তাগাদ দেন।

উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস:

শিক্ষক রবিউল হোসেন উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ,দূর্ণীতির অভিযোগ তুলে বলেন,টাকা না দেওয়ার কারনে ২৪ জনের ২০০৬ সালের বকেয়া পাওনা বাবদ টাকার ১৯৫ নং বিলে ভাউচার করেছিলাম। তৎমধ্যে ৭জনের কাজ হয়েছে বাকি ১৭জনের কাজ হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অঘোষিত গড়ফাদার মধু সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইশারায় শিক্ষকগনের এই দন্যদশা বলে অভিযোগ করেন। দুদকের কমিশনার সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অতিদ্রুত সময়ের মধ্য শিক্ষকগণের কাজ সমাধান করে দিতে তাগাদা দেন।

উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর:

প্রতিবন্ধি পাভেল নামের এক ব্যক্তি নিজে প্রতিবন্ধি ভাতা কেন পাচ্ছেন না-তা আক্ষেপ করে অভিযোগ তুলেন উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে । প্রতি উত্তোরে সমাজ সেবা অফিসার নাছরুল্যাহ আল মাহামুদ বলেন, কাল অফিসে আসিয়েন যাচাই বাচাইয়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধির লিষ্টে অন্তর ভুক্ত করার কথা জানান। দুদকের কমিশনার ড.নাছিরউদ্দীন আহমেদ সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে  উদ্দ্যোশ করে বলেন,সরকার আপনাদেরতো বেতন ভাতা দিচ্ছেন আপনারা প্রতিবন্ধিদের অফিসে আসতে বলেন।  কেন আপনারা জনগণের সেবা তাদের দুর-গোড়ায় পৌছে দিতে পারেন না।

শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়:

ধলঘাটার চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে সংশ্লিষ্ট দপ্ততরের প্রতি ধলঘাটার ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে জোর আবেদন করেন। মাতারবাড়ীর চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন,মাতারবাড়ীতে দুটি কয়লা বিদ্যুৎ হচ্ছে। তারমধ্য ১৪ শত ১৪একরের যে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি র্নিমিত হচ্ছে তাতে অধিগ্রহণকৃত জমি মূলত দু-ফসলী জমি হয়। শুষ্কমৌসুমে লবণ ও বর্ষার মৌসুমে চিংড়ি চাষ হত। সুদিন ও বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন পেশা ও ব্যবসার সাথে জড়িত ২১ ক্যাটাগরীতে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল। জায়গা জমি ছাড়াও বেঁড়িবাঁধের উপ থেকে ৪৫টি বসতবাড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তর দুদকের কথা বলে ওই বাড়ী ঘরসহ বিভিন্ন প্রকারের চাষি ও ব্যবসায়িদের ক্ষতিপূরনের টাকা অদ্যবদি উত্তোলন করতে দেয়নি। গণশুনানীর সুযোগকে কাজে লাগীয়ে মাতারবাড়ী ২য় কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিক আব্দু সত্তার অভিযোগ তুলে বলেন- সংশ্লিষ্ট দপ্তর মামলা সংক্রান্ত অভিযোগ দেখিয়ে তার নিজের জমির টাকা উত্তোলন করতে দিচ্ছে না। মামলা থাকার পরও সংশ্লিষ্ট রোয়েদাদে অন্য লোক দেরকে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করতে দিয়েছে। প্রতি উত্তোরে এডিসি আনোয়ারুল নাসের অভিযোগকারী আব্দু সাত্তারকে কক্সবাজার অফিসে গিয়ে দেখা করতে বলেন।

উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:-

উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সেবানিয়ে শাহাদাৎ উল্লাহ নামের এক রোগীর অভিভাবক অভিযোগ তুলে বলেন,একটি ডেলিভারী রোগীনিয়ে হাসপাতালে এসে কোন ধরনের সেবাই পায়নি সে। আর এক অভিযোগকারী মাঈন উদ্দীন বলেন- একটি হাসপাতালে যে সমস্ত সেবা থাকা প্রয়োজন, তা মহেশখালী হাসপাতালে নেই। অক্সিজেন এম্বুলেন্স এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের সেবার মান নেই। প্রতিউত্তরে হাসপাতালের টিএইচও ডা:সুচিন্ত চৌধুরী বলেন,অভিযোগকারী অভিযোগটি সত্য ড্রাইভার না থাকাতে এম্বোলেন্স গাড়ীটি বন্ধ রয়েছে। আরএমও মোহাম্মদ মাহাফুজুল হক বলেন আমরা আন্তরীকতার সহিত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। দুদকের কমিশনার ড.নাসিরউদ্দীন আহমেদ বলেন মহেশখালী রিমোট এরিয়া, সুতরা হাসপাতালে রোগীদের সেবারমান আরো বৃদ্ধিকরে ডাক্তারগণকে আরো মানব সেবায় অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে হবে। তা হলেই জনগনের কাছে আস্তা অর্জন করতে পারবে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস:

মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরিুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেন-ছাদেক উল্লাহ ছিদ্দিকি ও আওয়ামীলীগের নেতা মৌ:ওসমান বলেন মহেশখালীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না। ছাদেক উল্লাহ ছিদ্দিকী বলেন উপজেলা শিক্ষা ভবণের আশে পাশে স্কুল চলাকালীন সময়ে-অসমে প্রাথমিক লেবেলের শিক্ষকগণ আড্ডা দেয়। যা সচেতন মানুষের কাছে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রতি উত্তোরে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ বলেন- আমি ইতিমধ্যে ইউএনও মহোদয়কে নিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। আর যে সমস্ত শিক্ষক স্কুল চলাকালীন সময়ে অফিসের আশে পাশে ঘুরে এবং আড্ডা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে ,তা চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পল্লী বিদ্যুৎ মহেশখালী জোনাল অফিস:

কালামারছড়া এলাকার দলিলুর রহমান নামের এক ব্যক্তি রাইচ মিল এর মিটার সংক্রান্ত বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ মহেশখালী জোনাল অফিসের ডিজিএমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম অভিযোগ তুল্লে প্রতি উত্তরে ডিজিএম পল্লী বিদ্যুৎ মহেশখালী বলেন,আপনি দলিলুর রহমান ডকুমেন্টসহ কাল অফিসে আসলে কাজ হয়ে যাবে। আর যে টাকা মিটার এর বিষয়ে জমা দিয়েছেন তা কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে নিয়ে আসতে পারবে। মৌ:নুরুল আলম পল্লী বিদ্যুৎ এর বারং বার লোডশেডিং এর দন্যদশা থেকে মহেশখালী বাসিকে পরিত্রাণ দিতে বীহিত ব্যবস্থা করতে অভিযোগ তুলেন।পল্লী বিদ্যুৎতের মহেশখালী জোনাল অফিসের ডিজিএম আবুল বশর শামশু উদ্দীন আহমদ এর বিরুদ্ধে বড় মহেশখালী ইউপির সদস্য শফিউল আলম বলেন-আমি যখন পল্লী বিদ্যুৎ এর ডিজিএম এর কাছে সেবা নিতে আসি তখন ইনি আমাকে দু-দুর করে তাড়িয়ে দেন। দুদক এর মাননীয় কমিশনার ড. নাছিরউদ্দীন আহমেদ বলেন,পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বিভিন্ন সেবার মান নিয়ে সমস্যায় জজ্জরিত,সংযত হয়ে জনগনের সাথে সেবা সম্পর্কিত কথা বলতে ডিজিএমকে তাগাদ দেন এবং ইউএনও কে পল্লী বিদ্যুৎ দপ্তরে গিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দালাল মুক্ত করতে বলেন।গণশুনানী অনুষ্টান শেষে বিকাল ৪ ঘটিকার সময় দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) কমিশনার ড.নাছিরউদ্দীন আহমেদ কক্সবাজারের উদ্দ্যোশ্য মহেশখালী ত্যাগ করেন।