ঢাকা, রোববার, ৩ জুলাই ২০২২

চলছে দখল উৎসব : পেকুয়ায় খাল সমূহ নাব্যতা সংকটে মরতে বসেছে

প্রকাশ: ২০১৭-০১-১৩ ১৩:৩২:০৫ || আপডেট: ২০১৭-০১-১৩ ১৩:৩২:০৫

চলছে দখল উৎসব : পেকুয়ায় খাল সমূহ নাব্যতা সংকটে মরতে বসেছেসাইফুল ইসলাম বাবুল, পেকুয়া::
পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ও রাজাখালী ইউনিয়নকে বিভক্ত করেছে টইটং’এর খাল। যাকে স্থানীয়রা ‘পচা করিলা’ খালও বলে থাকে। ভোলা খাল থেকে এর উৎপত্তি হলেও খালটি ওই ইউনিয়ন দুটিকে ভাগ করে দিয়ে টইটং ইউনিয়নের কিনারা ঘেষে ছনুয়া খালে গিয়ে মিলিত হয়েছে।

বছর পাচেক আগেও রাজাখালী ইউনিয়নে উৎপাদিত অধিকাংশ লবণ এই খাল দিয়ে পরিবহণ করা হতো। সাগর থেকে মাছ ধরে এই খাল দিয়ে ঘরে ফিরতো জেলেরা। চলাচল করতো বড় বড় সাইজের ট্রলার। পাশ্ববর্তী তিন ইউনিয়নের অনেক মানুষ এ খালের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু সেই দিন আর নেই। ভরাট হয়ে গেছে পুরো খাল। যেখানে বর্তমানে ডিঙ্গি নৌকা চলাও দায়। এদিকে, ভরাট হওয়া খালের অধিকাংশই চলে গেছে খাল খেকোদের দখলে।

রাজাখালী ইউনিয়নের ৯নং ওযার্ড়ের ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া বলেন, খালটি পুণঃখনন জরম্নরি হয়ে পড়েছে। নয়তো খুব শীঘ্রই খালটি হারিয়ে যাবে।

এছাড়াও পেকুয়া উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহমান নদী ও পাহাড়ী ছড়া গুলো প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে নব্যতা হারিয়ে অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। দখলকারীরা প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে নদী ও ছড়া দখল করে প্রতিদিন বসতঘর নির্মাণসহ অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলণ করে চলছে। যার কারণে প্রবাহমান নদী ও ছড়া দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে পানি চলাচল করতে না পারায় পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানি উপকূলের উপর প্রবাহিত হয়ে বন্যার আকার ধারণ করছে। বিগত বছরের দুই দফা বন্যায় এ বিষয়টি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।

তথ্য সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চারপার্শ্বে বিস্ত্মৃত সবচেয়ে বড় ভোলার খাল ও মাতামুহুরী নদী। এসব নদীর শাখা প্রশাখা ছাড়াও পেকুয়ায় রয়েছে ছোট বড় অনেক খাল। এরমধ্যে উলেস্নখ্যযোগ্য হল চিলখালী খাল, রোপাই খাল, নুন্ন্যা মুইন্যার খাল, কহলখালী খাল, ঝাদুখালী ছড়া, সুনাইছড়ি ছড়া, গুদিকাটার ঠেক, মিয়ার খাল, জারম্নলবনিয়া ছড়া, হাজি বাজার খালসহ অসংখ্য খালও ছড়া। এসব নদী, খাল ও ছড়া দখল করে রেখেছে প্রভাবশালীরা। তারা বিভিন্ন কৌশলে নদ-নদী ও খালে বাদ দিয়ে চর তৈরি করে বিক্রি করছে অসহায় লোকদের কাছে। সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করছে পুরো ভোলা খাল ও দক্ষিণ মেহেরনামা হইতে মিয়া পাড়া হয়ে পেকুয়া বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বের খালটি। প্রভাবশালীরা খালে জেগে উঠা চর দখল করে দোকান ঘর ও বড় বড় দালান নির্মাণ করছেন। ডেভলাপার কোম্পানীগুলো খাল ও নদী দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছে। দখল করে ফেলায় নালার রূপান্ত্মরিত হয়েছে খাল। তা দিয়ে পানি চলাচলতো দূরের কথা হোটেল পয়ঃনিষ্কাশনের পানি পর্যন্ত্ম চলাচল করতে পারছে না।

অন্যদিকে ছড়াগুলো দখলে মেতে উঠেছে প্রভাবশালী বালুখেকোরা। তারা পাহাড়ী ছড়া দখল করে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে চলছে। উপজেলা প্রশাসন মাঝেমধ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরম্নদ্ধে অভিযান চালালেও প্রভাবশালীরা আবারো দখলে নিচ্ছে ছড়াগুলো। যার কারণে পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানি প্রবাহিত হতে বাধার সৃষ্টি হয়।

এক অনুসন্ধানে জানা গেছে বিগত বিএনপি সরকারের আমলে টইটং এর একটি খাল খনন করতে ২৮লাখ টাকার বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছিল। তা পুরোটায় লোপাট হয়ে যায়। এদিকে পেকুয়ার বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বেও খালটি দোকানদারেরা একটু একটু ভরাট করতে করতে পুরোটায় গিলে ফেলতে শুরম্ন করেছে। এই যদি অবস্থা হয় তাহলে পাহাড়ী ঢলে পেকুয়াবাসী কেন পানিতে ডুববেনা এ প্রশ্ন এলাকাবাসীর ?

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ’ পেকুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মাসউদ বিন জলিল বলেন, নদী ও খাল দখল মুক্ত ও সংস্কার করতে সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।