ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

মানবেতর জীবনযাপন করছে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা

প্রকাশ: ২০১৭-০১-১২ ১৭:১৩:৩২ || আপডেট: ২০১৭-০১-১২ ১৭:১৩:৩২

আক্রান্ত হচ্ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগে
মানবেতর জীবনযাপন করছে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা

আবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার::
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীর বনভূমিতে খাদ্য, শীতবস্ত্র ও ঔষধের অভাবে মানবেতর দিনযাপন করছে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা । বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত রোগে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা আক্রান্ত হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না বলে ভুক্তভোগী রোহিঙ্গারা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের সফর সামনে রেখে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা তান্ডব আগের তুলনায় কমেছে। যে কারণে সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে এখন ভাটা পড়লের বুধবার সকালে উখিয়া সীমান্তের জিরো পয়েন্টের ১ কিলোমিটার পশ্চিমে ১০৫ হেক্টর বনভূমিতে এখান আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গার দৈনন্দিন জীবনযাপন দেখে এসব তথ্য জানা যায়। এসময় বালুখালী বস্তির ১ নম্বর ব্লকের রাসিন্দরা জানান, তার ব্লকে প্রায় দেড় হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। যাদের অধিকাংশই হতদরিদ্র, বয়োবৃদ্ধ, শিশু ও স্বজনহারা নারী। পরিবারে পুরুষ না থাকায় ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনেকেই এখনো পর্যন্ত ঝুপড়ি নির্মাণ করতে পারেনি। আত্মীয়তার সুবাদে কারো না কারো ঝুপড়িতে কোনোরকম রাতযাপন করছে। পার্শ্ববর্তী আরেক বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রী, দুই সন্তান মিলে চারজনের একটি পরিবার কোনোরকম পলিথিনের নিচে রাত কাটাচ্ছে। জানতে চাওয়া হলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে পলিথিন থেকে বৃষ্টির মতো পানি পড়ে। কাপড়-চোপড় যা আছে, তাও ভিজে যায়। ঠান্ডায় তাদের একটি ছেলে নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

সরজমিন পরিদর্শন কালে পাহাড়ের ঝুপড়িতে দেখা যায়, আশ্রয় নেয়া অধিকাংশ বয়োবৃদ্ধ ও শিশু রয়সের রোহিঙ্গরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে জ্বরে কাতরাচ্ছেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না বলে ভুক্তভোগী রোহিঙ্গারা জানিয়েছে।

স্থানীয় চিকিৎসক ডা. আনোয়ার ফয়সাল জানান, ‘প্রচন্ড কুয়াশায় পলিথিন থেকে বৃষ্টির মতো পানি নির্গত হওয়ার কারণে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা ঠাণ্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকেই টাকার অভাবে সুচিকিৎসা নিতে পারছে না।’

এদিকে আইওএম’র ফিল্ড কোর্ডিনেটর সৈকত বিশ্বাস জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজারেও বেশি রোহিঙ্গাকে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

কুতুপালং-বালুখালীর এলাকাবাসীরা জানান, প্রথম দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিভিন্ন ব্যক্তিকে এসব রোহিঙ্গাদের নগদ টাকা ও শীতবস্ত্র বিতরণ করতে দেখা গেলাও ইদানিং তাও কমে গেছে। যে কারণে নতুন করে আসা রোহিঙ্গারা ঠান্ডাজনিত রোগে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে এলাকাবাসীরা জানান।