ঢাকা, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২

সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ বসতির মহোৎসব !

প্রকাশ: ২০১৭-০১-১১ ১১:৪৫:৩০ || আপডেট: ২০১৭-০১-১১ ১১:৪৫:৩০

সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ বসতির মহোৎসব !
সাইফুল ইসলাম বাবুল, পেকুয়া::
পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতর অবৈধভাবে গড়ে ওঠছে অহরহ বসতি। পেকুয়া উপজেলা, কুতুবদিয়া আর বাঁশখালীর লোকজন এ নিত্যনতুন বসতি গড়ে তুললেও সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ দেখেও না দেখার ভান করে আছে। মাঝে মধ্যে বনবিভাগ অভিযানে গেলেও জনবল সংকঠের কারণ দেখিয়ে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সাথে আতাঁত করে চলে আসে। যার কারণে পাহাড়ে অবৈধ বসতি স্থাপন এখন নিয়মিত। যার প্রভাবে ইতিমধ্যে জলবায়ুর মারাত্মক প্রভাবসহ পেকুয়াবাসী ভয়াবহ বন্যার করুণ পরিণতি ভোগ করেছে। ক্ষতির সম্মোখীন হয়েছে কোটি কোটি টাকার। সামনের দিনগুলোতে এভাবে বসতি স্থাপন অব্যাহত থাকলে আরো বেশি করুণ অবস্থার সম্মোখীন হওয়ার আশংকা করছে পরিবেশবাদীরা।

মঙ্গলবার সরেজমিন টইটং, বারবাকিয়া ও শীলখালীর বিভিন্ন পাহাড় পরিদর্শনে এ করুণ চিত্র দেখা গেছে। টইটং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি বনাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে, সরকার প্রদত্ত ২০০৬সালের বাফার সামাজিক বনায়ন এর রোপিত গাছতো উজাড় হয়েছে পাশাপাশি একটি সিন্ডিকেট পুরো এলাকায় ছোট ছোট বসতি স্থাপন করে পুরো পাহাড় দখল করে রেখেছে। অথচ সরকার এখনো সামাজিক বনায়নের মেয়াদ পূর্তি হলেও অনুষ্টানও করতে পারেনি। এছাড়াও এ সংরক্ষিত বনবিভাগের ভিতর রয়েছে ৪/৫টি বালির মহাল। যার বেশ কয়েকটিতে বালি উত্তোলনের কোন ধরণের অনুমতি নাই। এমনকি বালি পরিবহনের জন্য পাহাড় সাবাড় করে প্রভাবশালীরা রাস্তাও তৈরি করেছে। বারবাকিয়ার পাহাড়িয়াখালীতেই রয়েছে বন বিভাগের কর্মকর্তার কার্যালয়। তার কার্যালয়ের আশেপাশেও রয়েছে অহরহ অবৈধ বসতি।

পাহাড় পরিদর্শনকালে দেখা হয় বারবাকিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তা তওহীদুল ইসলামের সাথে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অহরহ বসতি কিভাবে স্থাপন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বনবিভাগের জনবল অনেক সংকট রয়েছে। যার কারণে প্রভাবশালীরা বসতি স্থাপন করলেও আমাদের করার কিছুই থাকেনা। এমনকি মাঝে মধ্যে তাদের কার্যালয়ে এসেও প্রভাবশালীরা হুমকি দিয়ে যায়।

টইটংয়ে বসতি স্থাপনে তার সংশ্লিষ্টতা আছে স্থানীয়দের এমন অভিযোগের মন্তব্যে তিনি জানান, এ সব তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ। তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা দ্রুত সকল অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করবেন বলে জানান।

জানা গেছে, দক্ষিণ বনবিভাগের এসিএফ এর সাথে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী একটি চক্রের যোগাযোগ রয়েছে। মাঝে মাঝে তিনি সংরক্ষিত বনবিভাগ পরিদর্শনে আসলেও অবৈধ বসতি উচ্ছেদের জন্য কোন ধরণের প্রদক্ষেপ নেননি। বরং তাদের সাথে দেনদরবার করে চলে যান। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি বসতিতে ৫০হাজার টাকার উর্ধ্বে বসতি স্থাপনকারীদের কাজ থেকে আদায় করেছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়রা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর অনেক অভিযোগও করা হয়েছে। তারপরও কোন সুরহা না হওয়ায় পাহাড় যেন সমতল ভূমিতে রূপান্তর হচ্ছে।

টইটং সোনাইছড়ির পাহাড়ে এক বসতি স্থাপনকারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি কয়েক বছর আগে বসতি স্থাপন করেছেন। বর্তমানে তিনি পাকা দালানের কাজ শুরু করেছেন। বনবিভাগের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তিনি পাকা দালান করছেন বলে জানান। এ বিষয়ে কর্মকর্তা তওহীদুল ইসলাম জানান, তিনি পাকা দালান করার কোন ধরণের অনুমতি দেননি। তার অবর্তমানে দালানটির কাজ করছেন।

পরিবেশবাদি সংগঠন সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ পেকুয়া শাখার সহ-সভাপতি ইমরান হোসাইন জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতর এভাবে বসতি স্থাপন অব্যাহত থাকলে আগামী ৫বছরের ভিতর পেকুয়ায় কোন পাহাড় থাকবেনা। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে আরো বলেন, বসতি উচ্ছেদ ও স্থাপন বন্ধ না করলে তারা মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষনা করবেন।