ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

পাল্টে যাচ্ছে মহেশখালী দ্বীপ॥

প্রকাশ: ২০১৭-০১-০৭ ২০:৩৫:২৪ || আপডেট: ২০১৭-০১-০৭ ২০:৩৫:২৪

পাল্টে যাচ্ছে মহেশখালী দ্বীপ॥
আবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার::
বাংলাদেশে যে কয়টি উপকুলীয় দ্বীপ রয়েছে তার মধ্যে মহেশখালী দ্বীপ অন্যতম। ৩৬২.১৮ বর্গ কিলোমিটার বিশিষ্ট এই দ্বীপটি পর্যটন নগরী কক্সবাজার সংলগ্ন জোয়ারের সময় বিচ্ছিন্ন থাকে আর ভাটার সময় বাংলাদেশের মুল ভু-ভন্ডের সাথে যুক্ত হয়। সংগত কারণে এই দ্বীপেটর লোকজন জেলাসহ দেশের বিভিণœ স্থানে নৌযানের মাধ্যমে যাতায়াত করে। বর্তমান সরকারের আমলে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞ ও পরার্মশকদের মতামত নিয়ে এই সরকার মহেশখালী দ্বীপে হাজার হাজার কোটি টাকা দেশী-বিদেশী বিনিয়োগে শুরু করেছে মহা কর্মযজ্ঞ। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৯‘শত ৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মহেশখালীর মাতারবাড়িতে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প, ৯‘শত ৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে মহেশখালী-আনোয়ারা এলএনজি পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্প ও ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ই¦তিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।  সংগত কারণে এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে মহেশখালী দ্বীপের উন্নয়নের চেহারা পাল্টে যাবে। সেইসাথে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, পর্যটন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে। এমনটি প্রত্যাশা মহেশখালী দ্বীপ বাসীর ।সরকারের চলমান মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হলে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট ঘুচবে এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা দূরীভূত হবে। তাছাড়া অর্থনৈতিক জোনসমূহ (ইজেড) বাস্তবায়নের কাজ সম্পন্ন হলে মহেশখালী দ্বীপে শিল্প-কারখানা স্থাপন হবে। এর ফলে মহেশখালী দ্বীপকে ঘিরে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের উজ্জ্বল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে। অদূর ভবিষ্যতে সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার পথে এগিয়ে যাবে মহেশখালী দ্বীপ । মহেশখালী দ্বীপের উন্নয়নের পথ ধরে সমগ্র বাংলাদেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হবে।মহেশখালীর মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র নির্মাণ করে দিচ্ছে জাপান মাতারবাড়িতে কয়লাভিত্তিক একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, কয়লা আমদানির জন্য জেটি নির্মাণ, মাতারবাড়ি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপন, কক্সবাজার থেকে মাতারবাড়ি পর্যন্ত সমুদ্রের ওপর সেতু নির্মাণ এবং মাতারবাড়ি ইউনিয়নকে এইটি টাউনশিপ হিসেবে গড়ে তুলতে অর্থায়ন করবে জাপান। এর পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নে একটি বিশেষায়িত গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করে দেবে জাপান সরকার। এজন্য জাপান সরকার চার বিলিয়ন ডলার বা ৪০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।জাপানের মারুবিনি কর্পোরেশনের মাধ্যমে এসব অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। আর সবই করা হচ্ছে গত ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর কালে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ’ শীর্ষক সমঝোতার আওতায়। ওই সমঝোতার আলোকে জাপান সরকার বাংলাদেশের শিল্প উন্নয়নের জন্য ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট বা বিগ-বি’ নামে এক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।জাপান সরকার বিগ-বির জন্য প্রধান তিনটি পিলার চিহ্নিত করেছে। প্রথমটি হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ট্রেড। মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের মাধ্যমে এই পিলার স্থাপন করা হবে। এ বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশ এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য পরিচালনা করবে। দ্বিতীয় পিলার হচ্ছে জ্বালানি। এজন্য মাতারবাড়িকে দেশের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আর ট্রান্সপোর্ট হচ্ছে তৃতীয় পিলার। এজন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে বিদ্যমান সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শিল্প ও বাণিজ্যের উপযোগী করে ঢেলে সাজানো হবে এবং তা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে বিস্তৃত করা হবে।এ কর্মসূচির মাধ্যমে মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এলাকায় একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্ট গঠন করবে। প্রস্তাবিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্টের জন্য মাতারবাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। একই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ সরকার চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শিল্প স্থাপনের জন্য ‘ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান’ তৈরি করার প্রস্তাব করেছে সফররত জাইকা প্রেসিডেন্টের কাছে।এ মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাতারবাড়িতে প্রতিটি ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য একটি ঋণ চুক্তি সই হয়েছে ইতিমধ্যে। সম্প্রতি রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও হোটেলে চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (আইরডি) সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন এবং জাইকার বাংলাদেশ প্রধান মিকিও হাতাদা। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় বাংলাদেশ সফররত জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিতু তানাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, জাপান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মোট পাঁচ প্রকল্প ঋণের চুক্তি হয়েছে। পঁয়ত্রিশতম জাপান ওডিএ লোন প্যাকেজের আওতায় পাঁচ প্রকল্পে জাপান সরকার বাংলাদেশকে মোট ১ হাজার ১৮৪ কোটি ডলার বা ৯ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে। এর মধ্যে মাতারবাড়ি ‘আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল’ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে জাপান দেবে ৪০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ১০ বছরের রেয়াতি সময়সহ এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে ৪০ বছরে। আর সুদ দিতে হবে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও অনুষ্ঠানে ২৩ কোটি ১ লাখ ডলারের ন্যাচারাল গ্যাস ইফিসিয়েন্সি প্রজেক্ট, ৩০ কোটি ডলারের ইনক্লুসিভ সিটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের হাওর ফুড ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড প্রজেক্ট এবং ৯ কোটি ৭০ লাখ ডলারের এগ্রিকালচারাল প্রডাক্টিভিটি ইম্প্রভমেন্ট অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রজেক্টে জাপানি ঋণ দেয়া বিষয়ে চুক্তি সই হয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিতু তানাকা বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বঅর্থনীতির কেন্দ্র এখন ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় বিস্তৃত হচ্ছে। এক্ষত্রে বাংলাদেশ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভাব হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি কৌশলগত এলাকা বাংলাদেশ। বিগ-বি কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার কৌশলগত অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। আর বিগ-বির মাধ্যমে শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে বাংলাদেশের অফুরন্ত সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে এদেশের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের ওপরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আর সেক্ষেত্রে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে বাংলাদেশকে খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না। কারণ মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই মধ্য আয়ের দেশের কাতারে চলে এসেছে।

মহেশখালী-আনোয়ারা এলএনজি পাইপলাইন প্রকল্প:-

চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট নিরসনে এলএনজি গ্যাস পাইপ লাইন নির্মাণ শুরু হয়েছে। মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন নির্মাণ প্রকল্পে কাজ শুরু করেছে দীপন গ্রুপ। বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার ও শিল্প কারখানায় গ্যাসের চাহিদা মেটাতে তরল প্রাকৃতির গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে সেই এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৯২ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপ লাইন নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। প্রায় ৯‘শত ৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এই পাইপ লাইনের মাধ্যমে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এ পাইপ লাইনটি স্থাপনের জন্য ঘটিভাঙ্গা মৌজার ৫.৯৪৩ একর, পানিরছড়া মৌজার ৬.৭৬৭ একর, উত্তর নলবিলা মৌজার ৩.৯৯৭০ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে।৯২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পাইপ লাইনটি নির্মাণে ৫টি কোম্পানি কাজের দায়িত্ব পেয়েছে। দীপন গ্রুপ ৬ হাজার ৭০০ মিটার দীর্ঘ পাইপ লাইনটি হোয়ানকের ধলঘাট পাড়া হয়ে পশ্চিমে এলএনজি টার্মিনাল স্টেশন পর্যন্ত কাজটি বাস্তবায়ন করবে। অপর ৪টি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে টেকনিক গ্রুপ, পিইএল, ম্যাকসুয়েল ও গ্যাসমিন। দীপন গ্রুপের সিনিয়র সুপারভাইজার মোহাম্মদ শাহাজাহান জানান, সমস্যা না হলে দুই মাস সময়ের মধ্যে পাইপ লাইনটি স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এ প্রকল্পে ৬.৭০০ মিটার লাইন স্থাপনে দক্ষ ২০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকবে। ৪/৫ ফিট গভীর মাটির নিছে পাইপস্থাপনের জন্য স্কেভেটর দিয়ে মাঠি খনন করা হবে। মহেশখালী দ্বীপে সরকারের নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্পের অন্যতম আনোয়ারা- মহেশখালী গ্যাস লাইন সঞ্চালন নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পে কাজ শুরু করায় মহেশখালী ভূমি মালিকদের মাঝে ক্রয় বিক্রয়ের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। জমির দামও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমের পূর্বে প্রকল্পের কাজটি সম্পন্ন করতে এবং মহেশখালীর জনতা বাজার সড়কের ব্রিজ নির্মাণ কাজের দ্রুত বাস্তবায়ন চায় মহেশখালীবাসী।এদিকে মহেশখালী মাতারবাড়ি  এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিড়ে সরবরাহের জন্য তিনটি সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এসব পাইপলাইন নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’-এর আওতায়।সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যদিও এ তিনটির মধ্যে দুটি পাইপলাইনের প্রস্তাবিত ব্যয়ে আপত্তি রয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের। আর বিশেষ আইনে পাইপলাইন নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সূত্রমতে, বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ২ হাজার ৭’শত মিলিয়ন ঘনফুট। এ হিসাবে ঘাটতি থাকছে দৈনিক ৫’শত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। তাই জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।আমদানিকৃত গ্যাস খালাসের জন্য মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের মধ্যেই আমদানি করা এলএনজি দেশে আসবে বলে আশা করছে জ্বালানি বিভাগ। ওই এলএনজি প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাহিদা পূরণের পর বাকিটা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। এজন্য চট্টগ্রামের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের গ্যাস সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বাড়াতে তিনটি প্রকল্পে ২৯৪ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।এগুলো হলো,মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৮৩ কিলোমিটার, আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এবং ফৌজদারহাট হয়ে ফেনী ও বাখরাবাদ পর্যন্ত ১৮১ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপলাইন।মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৮৩ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ হাজার ১’শত ১৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের স্টেশনারি, ডরমিটরি, অফিস ও আবাসিক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। অপরদিকে কক্সবাজার জেলার মহেশখালির মাতারবাড়িতে নির্মাণ হতে যাওয়া এলএনজি গ্যাস টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহে চট্টগ্রামের আনোয়ারা-ফৌজদারহাট পর্যন্ত নতুন পাইপ লাইন হচ্ছে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৭’শত ৭৬ কোটি ১১ লক্ষ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশ থেকে আমদানি করা তরল গ্যাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত গ্যাস দেশের সার্বিক চাহিদা মেটানোর জন্য জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) একনেক সভায় এ প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। একনেক সভায় এ প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পটি গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিল) বাস্তবায়ন করবে।বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা পূরণের জন্য সরকার বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পেট্রোবাংলা বিল্ড ওন অপারেট এন্ড ট্রান্সফার (বিওওটি) ভিত্তিতে মহেশখালিতে ফ্লোটিং স্টোরেজ এন্ড রি-গ্যাসফিকেশন ইউনিট স্থাপন করে এলএনজি আমদানির মাধ্যমে ৫’শত এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অপরদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইন, ২০১০ সালের ৫ ধারার বিধান অনুসারে কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়িতে দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন ল্যান্ড বেইসড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সমন্বিতভাবে ভারতের রিলায়েন্স মহেশখালীতে ৫’শত মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে। সমুদ্র অঞ্চল থেকে উৎপাদন ও বন্টন চুক্তির আওতায় গ্যাস প্রাপ্যতার সম্ভবনা রয়েছে। কিন্তু মায়ানমার হতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির প্রচেষ্টা চলছে।এ প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক পর্যায়ে মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল, মায়ানমার হতে আমদানিতব্য গ্যাস এবং সাগর ব্লকে সম্ভাব্য সমুদয় গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য আনোয়ারা-ফৌজদারহাট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে, কর্ণফুলি নদীতে ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার রিভারক্রসিং সহ ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের ৩০ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন, একটি রেগুলেটরিং এবং মিটারিং স্টেশন স্থাপন, সিপি সিস্টেম, রিভার ক্রসিংসহ পাইপ লাইনের মালামাল ক্রয়, পথস্বত্ব ও পরিবেশগত জরিপ এবং ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন ইত্যাদি।এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগ সূত্রে জানা যায়,প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর গত ১৮ আগষ্ট পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। জ্বালানী সংকট নিরসনে এবং দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা মেটানোর জন্য প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয় বলে জানা গেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় গেলে অনেক দেরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই বিশেষ আইনের আওতায় আলোচনার মাধ্যমে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই টার্মিনাল স্থাপিত হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের গ্যাস সংকটের সমাধান হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচও অনেকটাই কমে আসবে।

বিদ্যুৎ বিভাগও বলছে, বর্তমানের প্রতি লিটার ডিজেলের আমদানি মুল্য ৭৪ টাকা ধরলে কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ পড়ে ১৬ দশমিক ১৩ টাকা। কিন্তু আমদানিকৃত এলএনজিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হবে ৯ দশমিক ৪০ টাকা। আবার দৈনিক ৫০০ এমএমসিএফডি এলএনজি এবং দেশে উৎপাদিত দৈনিক দুই হাজার ৩০০ এমএমসিএফডি প্রাকৃতিক গ্যাস মিশ্রিত করলে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের মূল্য দাঁড়াবে ৪ দশমিক ৩৯ ডলার। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ পড়বে ৪ দশমিক ৩৭ টাকা।

এদিকে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) সূত্র জানিয়েছে, এলএনজি গ্যাস রূপান্তর করে চট্টগ্রামে আনার জন্য ৩১ ইঞ্চি ব্যাসের ৯১ কিলোমিটার পাইপ লাইন নির্মাণ করতে হবে। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত এই সরবরাহ লাইন স্থাপন করবে। পাইপ সরবরাহের জন্য ভারতীয় মান কোম্পানির ৩ কোটি ৬৩ লাখ ২৩ হাজার ৭৭৫ ডলারের দরপ্রস্তাব প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং গ্যাস ঘাটতির কারণে দ্রুততম সময়ে এলএনজি আমদানির জন্য ২০১০ সালে একটি এলএনজি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এরপর ২০১১ সালে কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হিসেবে কাতার থেকে বছরে ৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি আমদানির লক্ষ্য ঠিক করে সরকার। সরকার আরো সিদ্ধান্ত নেয় যে, কাতার থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে এই টার্মিনালে তা আবার গ্যাসে রূপান্তরিত করা হবে। এরপর সঞ্চালন পাইপ লাইনের মাধ্যমে স্থলভাগে আনা হবে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে। এলএনজি কার্গোর জন্য সমূদ্রে ১২ থেকে ১৫ মিটার গভীরতা দরকার এজন্য মহেশখালীতে এই টার্মিনাল স্থাপনের স্থান নির্ধারণ করা হয় বলে জানা যায়। তবে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, কাতার থেকেই যে এলএনজি আমদানি করা হবে তা নয়। সুবিধাজনক হলে অন্য দেশ থেকেও তা আনা হতে পারে।

মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প:-

৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। সম্প্রতি শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প বিদেশি অর্থায়নে (জাইকা) ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি , সরকারি খাত থেকে ৪ হাজার ৯২৬ কোটি ৬৬ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ১১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা মেটানো হবে। প্রকল্প এলাকা হিসাবে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়নকে চিহ্নিত করা হয়েছে।বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, ‘একনেক সভায় মাতারবাড়ি কয়লা ভিত্তিক প্রকল্পসহ মোট পাঁচটি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পাঁচটি প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা।’মন্ত্রী জানান, ‘মাতারবাড়িতে আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১২০০ মেগাওয়াট। ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পূর্ণ দুটি ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রতি টন কয়লার দাম ১০ হাজার ২৫৫ টাকা ৫০ পয়সা ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন,  বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে আমদানিকৃত কয়লার উপর নির্ভরশীল। এদিকে গত বছরের ১১ আগষ্ট অধিগ্রহনকৃত জমির মালিকদের চেক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক। এ সময় তিনি চেক গ্রহনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য আপনারা যে ত্যাগ শিকার করছেন তা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের পাশেই থাকবেন। আপনাদের ভয়ের কোন কারন নেই। জমির ক্ষতিপুরন ছাড়াও সরকারি সহায়তা আপনাদের জন্য উম্মুক্ত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অভিভাদন জানিয়ে জমির মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আস্থা রাখুন তিনি কোনদিন এই দেশের জনগণের ক্ষতি করবেন না।

জেলা হুমুক দখল অফিস সুত্রে জানা যায়, জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১৪১৪ একর। ওই জমির ক্ষতিপুরণ বাবদ ২শ ৩৭ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। এতে সর্বোচ্চ ক্ষতিপুরণ পাবে খালের মালিকরা। তারা প্রতি একরে ক্ষতিপুরণ পাবেন প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭৮ টাকা। লবণ মাঠের মালিকরা পাবেন প্রতি একরে ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪০৭ টাকা। নাল জমির মালিকরা পাবেন প্রতি একরে ১৭ লাখ ২১ হাজার ১৮৭ টাকা। এ ছাড়াও ক্ষতিপুরনের জন্য নির্ধারিত টাকার সাথে ৫০ ভাগ টাকা পর্যায়ক্রমে যোগ হবে।

সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প:-

সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর আগামী ২০৫৫ সাল নাগাদ শেষ হবে বলে সরকারের আশা রয়েছে। আর এ বন্দর নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল সরকারের। তবে সে উদ্যোগে এখন অনেকটা ভাটা পড়েছে। আর পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে সরকার থেকে এক হাজার ১২৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার থেকে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার পর বিভিন্ন দেশ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে চীনের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। পরবর্তীতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশও এই সমুদ্রবন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে। বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে কোন গভীর সমুদ্রবন্দর না থাকায় এ অঞ্চলে পণ্য আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা রয়েছে। সিঙ্গাপুর আর শ্রীলঙ্কার গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে আসছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ হলে ভারত, নেপাল, ভুটানও লাভবান হবে। বাংলাদেশ পরিণত হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে শুধুমাত্র শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানেই গভীর সমুদ্রবন্দর রয়েছে। বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হলে গোটা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলই লাভবান হবে।গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীন ও ভারতের আগ্রহের পর সরকার এ বিষয়ে ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নিতে চাইছে। সকল পক্ষকে সমঝোতায় এনেই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সামনে এগোতে চায় সরকার। কেননা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভৌগলিক অবস্থানে থাকার কারণে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়েই এ ধরনের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী সরকার। সে কারণে একক কোন দেশকে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ না দিয়ে যৌথভাবে একাধিক দেশকে নিয়েও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে ভূরাজনৈতিক কৌশলগত বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে ধীরে পদক্ষেপ নিতে চায় সরকার। চীন ও ভারতকে সমঝোতায় নিয়েই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। সোনাদিয়া ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পে ইতোমধ্যে যে ছয়টি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে একক কোন দেশকে দায়িত্ব না দিয়ে একাধিক দেশকেও সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে চলতি সপ্তাহে ভারতের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে।

সূত্র জানায়, সোনাদিয়া ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীন, ভারত, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যেই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে জি টু জি (সরকার-সরকার) ভিত্তিতে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চীন, ভারত, নেদারল্যান্ডস ও দুবাইয়ের চারটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এসব প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ কাদের দেয়া হবে সেটা এখনও চুড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।প্রথমে এককভাবে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করতে চাইলেও আগ্রহী দেশগুলোও সরকারের মনোভাব বুঝতে পেরেছে। সে কারণে তারাও এখন যৌথভাবে নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াং জানিয়েছেন, চীন গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সর্বাত্মকভাবে কাজ করতে চায়। সোনাদিয়া বা পায়রা বাংলাদেশের যেখানেই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হোক সেখানে তৃতীয় যে কোন দেশকে যুক্ত করতেও রাজি চীন। তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থেই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ জরুরী। কেননা বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে গভীর সমুদ্রবন্দর নেই। সে কারণে সিঙ্গাপুর অথবা শ্রীলঙ্কার বন্দরে গিয়ে পণ্য স্থানান্তরিত করতে হয়। তাই বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করতে পারলে এ দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

এদিকে, সম্প্রতি দিল্লীতে ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক ও নৌপরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়করি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন করতে চায় ভারত। সে লক্ষ্যে শীর্ষপর্যায়ের এক প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মাটিতে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের জন্য আমরা সুযোগের অপেক্ষায় আছি। আমরা চাই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাক। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের বিষয়ে ইতোমধ্যে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রাথমিক আলোচনা করেছেন। নৌ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহেই বাংলাদেশ সফর করবে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তীতে বন্দর তৈরির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগের প্রস্তাবটিও চূড়ান্ত করা হবে। পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর নির্মাণে ভারত অংশ নিলে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা মাইলস্টোন হবে বলেও মন্তব্য করেছেন গড়করি।

এদিকে, গত বছরের নবেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেদারল্যান্ডস সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী সে সময় তাদের প্রস্তাবকেও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন। এছাড়া গত বছর জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মার্ক রুট। সে সময়ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল নেদারল্যান্ডস।

সূত্র জানায়, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন বিভেদ নেই। দেশের সকল রাজনৈতিক দলই চায় সোনাদিয়া ও পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হোক। অভ্যন্তরীণ বিভেদ না থাকলেও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সরকার। তবে এই অঞ্চলে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনের আগ্রহকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। কেননা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনের অভিজ্ঞতাই বেশি। বিশেষ করে পাকিস্তানের গোয়ারদার, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা ও মিয়ানমারের কুয়াকফুতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করেছে চীন।

এদিকে ভূরাজনৈতিক কারণে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দরের ভবিষ্যত নিয়ে আশার আলো নেই বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মইনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর অদূর ভবিষ্যতে হবে না। এটা ভূরাজনৈতিক কারণে। ভারত চীনকে বঙ্গোপসাগরে আসতে দিতে চায় না। এতে ভারতের ভেটো (আপত্তি) রয়েছে। তবে চীনকে না দিলেও গভীর সমুদ্রবন্দরের বিষয়ে অন্য অনেকের আগ্রহ আছে। তাদের প্রাধান্য দিতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান জানিয়েছেন, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ একটি মেগা প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজন তা কোন একক প্রতিষ্ঠান বা একক দেশের পক্ষে যোগান দেয়া দুরূহ ব্যাপার। তাই এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকার সামনের দিকে এগোচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়িতে ৬শ’ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৪টি (২৪শ’ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল এবং গভীর সমুদ্রবন্দর (ডিপ সী-পোর্ট)Ñএই ৩টি উন্নয়ন মেগা প্রকল্পের সমন্বয়ে জাপানের তরফ থেকে সরকারের কাছে বিনিয়োগ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল সমেত একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণে জাপানের অর্থায়নের প্রস্তাবে ইতোমধ্যেই সায় দিয়েছে বাংলাদেশ। জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) মাতারবাড়িতে ৪টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল ও বন্দর স্থাপনা নির্মাণের জন্য ৮০ শতাংশ অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এক্ষেত্রে সুদের হারও কম রাখার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। সমন্বিত এ প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ হাজার কোটি টাকা। এ যাবৎ প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ প্রায় ৫০ শতাংশ এগিয়ে গেছে।মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনালসহ বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে এই তিনটি কারিগরি প্রকল্পকে সমন্বিতভাবে গড়ে তোলা ও ব্যবহার করা যায়। মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়ে জাপানের সুমিতোমো ও মারুবেনি কর্পোরেশন প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাক-যোগ্যতা দরপত্রে (প্রি-কোয়ালিফিকেশন) উক্ত দু’টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশের সঙ্গে জাইকার একটি ঋণ চুক্তি হয়েছে। মাতারবাড়ি ৪টি ইউনিটের বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল ও গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্পে শূণ্য দশমিক ১ শতাংশ সুদে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদানের ব্যাপারে সরকারের কাছে আগ্রহের কথা জানিয়ে দিয়েছে জাইকা।জাপানের আর্থিক সহায়তায় মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ২৪শ’ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিদ্যুৎ মহাপ্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল, সমুদ্রবন্দর অবকাঠামো বাস্তবায়ন কাজ এ বছরেই শুরু হতে পারে। এর পাশাপাশি মহেশখালীর মাতারবাড়ি, ধলঘাট, সোনাদিয়াসহ কক্সবাজার শহর পর্যন্ত ভারী শিল্প এলাকা, উপশহর (টাউনশিপ), এলএনজি টার্মিনাল, মহেশখালী চ্যানেলে ঝুলন্ত সেতু, পর্যটন কেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং এসব ঘিরে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হবে। মহেশখালীর মাতারবাড়িতে প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎপ্রকল্পটি হবে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ও সর্বোচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন। বিদ্যুৎ প্রকল্পটি অত্যধিক জ্বালানি সাশ্রয়ী (আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল) প্রযুুক্তিতে নির্মিত হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তাপীয় দক্ষতা (থার্মাল এফিসিয়েন্সি) হবে প্রায় সাড়ে ৪১ শতাংশ। এ মহাপ্রকল্প কয়লাভিত্তিক হলেও যাবতীয় বর্জ্য নির্গমনে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি অনুসরণ করা হবে। এরফলে এটি হবে সত্যিকার অর্থেই পরিবেশ-প্রতিবেশ বিশেষ করে কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকার জীববৈচিত্র্য-বান্ধব। তিন ধাপে এ মহাপ্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে ২০২৩ সালে। প্রথম ধাপে ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিট স্থাপনের কাজ ২০১৮ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।গভীর সমুদ্রবন্দর তথা স্বপ্নের মহাবন্দর স্থাপনের মহাপরিকল্পনা পুরোদমে চূড়ান্ত হওয়ার আগে এ নিয়ে চলছে নতুন করে পর্যালোচনা। ডিপ সি-পোর্ট বা গভীর সমুদ্র বন্দরের স্থান বাছাই করা হচ্ছে মাতারবাড়িতে। সোনাদিয়ার তুলনায় মাতারবাড়ি সুবিধাজনক জায়গা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১১ বছরে আর চূড়ান্ত ধাপে ৪৬ বছরে পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো সুবিধা দাঁড় করে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য ব্যয় দাঁড়াবে ৬০ হাজার কোটি টাকা। আগামীতে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ বিশেষ করে ব্যাপকাকারে আমদানি-রফতানি প্রবাহ সামাল দেয়ার জন্য গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনকে অপরিহার্য অবকাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে বিভিন্ন দায়ির্ত্বশিল নির্ভরযোগ্য নূত্রে জানা গেছে।

মাতারবাড়ি পরিদর্শনে জাপানী রাষ্ট্রদূতসহ জাইকা প্রতিনিধিদল:-

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটের প্রকল্প নির্ভর এলাকা হতে যাচ্ছে মহেশখালীর মাতারবাড়ি। এমনকি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সরকারের গৃহীত ও বাস্তবায়নাধীন এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম, ইপিজেড, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে মাতারবাড়ি। গত ১৮ই নভেম্বর) দুপুরে এসব একাধিক প্রকল্প সমূহের স্থান পরিদর্শন করেছেন জাপানী রাষ্ট্রদূত, জাইকা প্রতিনিধি,বিদ্যুৎমন্ত্রী সহ স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশের আইজিপি সহ ১৮ প্রতিনিধিদল। বিশেষ প্রতিনিধি দলের বহনকারী হেলিকপ্টারটি দুপুর  ১২ঘটিকার সময় মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাঠে তৈরি হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন।দলটি কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করে মত বিনিময় সভায় অংশগ্রহন শেষে এলাকাবাসীর বিভিন্ন দাবি দাওয়ার কথা শুনেন। এসময় স্থানীয় জনতা মাতারবাড়ীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ এলাকায় বসবাসকারীদের উদ্দেশ্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ বিষয়ক উপদেষ্টা ডঃ তৌফিক ই ইলাহী বীর বিক্রম জানান, মহেশখালীর সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করবে না সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করেই বাস্তবায়িত হবে এ বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প।তিনি আরো জানান,অচিরেই মহেশখালী হবে বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্ন দুয়ার। আমরা সব ক’টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নসহ সকল কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে চাই এবং মাতারবাড়ির চতুর্পাশের বেড়িবাঁধ সংস্কারে অচিরেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এসময় ১৮প্রতিনিধিদের সাথে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানী রাষ্ট্রদূত এইচই মাসাটু ওয়াটানাভি,মিকিও হাতা আয়াডা প্রধান প্রতিনিধি জাইকা বাংলাদেশ,মিসেস ইউশিহারা মাসাকো জাইকা প্রতিনিধি বাংলাদেশ, মাননীয় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ বিষয়ক মন্ত্রানালয়,মোঃ আবুল কালাম আজাদ মুখ্য সচিব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেষ্ঠ্য সচিব ডঃ মোঃ মোজাম্মেল হক খান,এডমিরাল মোঃ নিজার উদ্দিন ওএসপি,এনডিসি,পিএসসি চীফ অব নেভাল স্টাপ বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, পুলিশের আইজিপি একেএম শহিদুল হক মহা পরিদর্শক বাংলাদেশ পুলিশ, মনোয়ার ইসলাম সচিব বিদ্যুৎ বিভাগ,মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান খান এনডিসি মহাপরিচালক আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী,রিয়ার এডমিরাল আওরঙ্গ জেব চৌধুরী মহাপরিচালক কোষ্টগার্ড,মোঃ মাহাবুব আলম অতিরিক্ত সচিব অর্থনীতিক সম্পর্ক বিভাগ,ফরিদা নাসরিন অতিরিক্ত সচিব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ,এসএম আমিনুর রহমান অতিরিক্ত সচিব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ,মোঃ নাজমুল আবেদীন উপসচিব বিদ্যুৎ বিভাগ,মাসুদা বেগম সহকারী প্রধান অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ,সুগত ভট্রাচার্য ফটোগ্রাফার বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রানালয়।

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটের প্রকল্প নির্ভর এলাকা হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি।এমনকি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সরকারের গৃহীত ও বাস্তবায়নাধীন এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম, ইপিজেড, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে মাতারবাড়ি। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ির এ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেছেন জাপানের রাষ্ট্রদূত, জাইকা প্রতিনিধি, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশের আইজিপিসহ ১৮ প্রতিনিধিদল। প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী বলেন, মহেশখালীর সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করবে না সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক মানুষের স্বার্থরক্ষা করেই বাস্তবায়িত হবে এ বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রতিনিধি দলের বহনকারী হেলিকপ্টারটি দুপুর ১২টার দিকে সময় মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাঠে তৈরি হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। দলটি কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত এইচই মাসাটু ওয়াটানাভি, মিকিও হাতা আয়াডা প্রধান প্রতিনিধি জাইকা বাংলাদেশ, মিসেস ইউশিহারা মাসাকো জাইকা প্রতিনিধি বাংলাদেশ, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ বিষয়ক মন্ত্রানালয়, মোঃ আবুল কালাম আজাদ মুখ্য সচিব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেষ্ঠ্য সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, এডমিরাল নিজার উদ্দিন ওএসপি, পুলিশের আইজিপি একেএম শহিদুল হক, মনোয়ার ইসলাম সচিব বিদ্যুৎ বিভাগ, মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান খান এনডিসি মহাপরিচালক আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, রিয়ার এডমিরাল আওরঙ্গ জেব চৌধুরী মহাপরিচালক কোস্টগার্ড মো. মাহাবুব আলম অতিরিক্ত সচিব অর্থনীতিক সম্পর্ক বিভাগ, ফরিদা নাসরিন অতিরিক্ত সচিব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, এসএম আমিনুর রহমান অতিরিক্ত সচিব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, মোঃ নাজমুল আবেদীন উপসচিব বিদ্যুৎ বিভাগ, মাসুদা বেগম সহকারী প্রধান অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ প্রমুখ।