ঢাকা, শুক্রবার, ১ জুলাই ২০২২

রোহিঙ্গা বস্তিতে খাদ্য সংকট, শীতে কাঁপছে শিশুরা

প্রকাশ: ২০১৭-০১-০৭ ২০:০৮:৫৩ || আপডেট: ২০১৭-০১-০৭ ২০:০৮:৫৩

রোহিঙ্গা বস্তিতে খাদ্য সংকট, শীতে কাঁপছে শিশুরা

গফুর মিয়া চৌধুরী, কুতুপালং থেকে ফিরে ॥

মায়ানমারে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশের উখিয়া ও টেকনাফে চলে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী পুরুষ ও শিশুরা প্রচন্ড শীতে কাঁপছে এবং অনাহারে অর্ধহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস ও যত্রতত্র মলমুত্র ত্যাগ করার কারণে সর্বত্র পরিবেশ দুষিত হওয়ার পাশা-পাশি রোগ জীবানু ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়াও প্রকট খাদ্য সংকটের কারণে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা খাবারের অভাবে ক্ষুধার্ত থাকতে হচ্ছে।  ৭ জানুয়ারী (শনিবার) দুপুরে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পূর্ব পার্শ্বে বালুখালীতে গড়ে নতুন করে গড়ে উঠা রোহিঙ্গাদের বস্তি পরিদর্শনে এসব চিত্র চোখে পড়ে।

মায়ানমার রাজ্যের আইনশৃংখলা বাহিনীর চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে গত ১ মাস ধরে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। দলে দলে আসা রোহিঙ্গারা উখিয়া উপজেলার কুতুপালং সহ জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে।

এদিকে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের আশেপাশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা নতুন বস্তি গড়ে তুলে একের পর এক। গত ৩দিন ধরে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ ও উখিয়া বনবিভাগ এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব রোহিঙ্গাবসতি ও ঝুঁপড়ি ঘর উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উচ্ছেদ হওয়া নতুন রোহিঙ্গারা বালুখালী এলাকায় বনবিভাগের পাহাড়ী ও সমতল জায়গায় বস্তি গড়ে তুলেছে স্বেচ্ছায় শ্রমে। খবর পেয়ে শত শত রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেওয়ার জন্য নতুন গড়ে উঠা উক্ত বস্তিতে চলে আসতে শুরু করেছে দিনের পর দিন। মংডু কাজীর বিল এলাকার খলিল আহমদ (৫০) জানান, স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় কোন রকম আমরা আশ্রয় ফেলেও প্রচন্ড শীতে কাতারাচ্ছে সবাই। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ নারী পুরুষরা এক দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। একই দেশের জাবুনিয়া গ্রামের জহির আহমদ (৪৫) ও শমশের আলী (৪০) বলেন, গত ৩ দিন ধরে এক বেলা ভাত কারো কপালে জুটেনি। শিশুরা খাবার না পেয়ে হাঁহাঁকার করছে।

পালংখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আবছার চৌধুরী সিএসবি২৪ ডটকমকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বালুখালী এলাকায় রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেওয়ার জন্য নতুন বস্তি গড়ে তুলেছে। উক্ত বস্তিতে কমপক্ষে ৩ হাজার রোহিঙ্গা নারী পুরুষ ও শিশুরা রয়েছে। তবে স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় সর্বত্র দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ত্রাণ সামগ্রী বা খাদ্য সংকটের কারণে নতুন রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সাবেক মেম্বার গফুর উল্লাহ জানান, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারাদেরকে নিয়ন্ত্রন ও আইনশৃংখলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

বার্মার সোনালী পাড়া থেকে আসা মেহের নেছা (৫৫) ও এলেমা খাতুন (৫৫) বলেন, গত ১১ দিন আগে সীমান্ত দিয়ে প্রথমে কুতুপালংয়ে আসি। সেখানে আমাদেরকে বিতাড়িত করলে আমরা বালুখালীতে গড়ে উঠা নতুন বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের মত শত শত রোহিঙ্গারা রয়েছে। প্রচন্ড শীতে ও খাদ্যের অভাবে সীমাহীন কষ্টে জীবন যাপন করছি।

এদিকে সকালে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাঈন উদ্দিন, উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: মনিরুল ইসলাম ও উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) বালুখালীতে গড়ে উঠা নতুন রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শন করেছেন।