ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২

রামুর মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী

প্রকাশ: ২০১৭-০১-০৬ ২৩:০৫:৩৪ || আপডেট: ২০১৭-০১-০৬ ২৩:০৫:৩৪

রামুর মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী
খালেদ হোসেন টাপু,রামু::

কক্সবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বলেছেন, দেশ ও সমাজকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে আমাদের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে লেখাপড়া। লেখাপড়া না হলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অর্জিত হবে না। পাশাপাশি লেখাপড়ার জন্য দরকার সুষ্ঠু পরিবেশ। আমাদের সন্তানদের পড়ালেখার জন্য পরিবেশ দিতে হবে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তাদের মানুষের মত মানুষ হতে হবে। কক্সবাজারকে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে তাদেরকেই। মহাপরিকল্পনায় কক্সবাজার উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ চলছে। পর্যটন নগরী কক্সবাজার অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে দ্রুত এগিয়ে চলছে। বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) রাতে রামু মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার সমাপনী দিনের স্মৃতিচারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মঞ্চে রামু মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ সদ্য নির্বাচিত কক্সবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাবেক সাংসদ মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য শামশুল আলম ও নুরুল হক কোম্পানী, নির্বাচিত সদস্য সোহেল জাহান চৌধুরী, সংরক্ষিত আসনের সদস্য তাহমিনা চৌধুরী লুনা, প্রবাসী অতিথি ড. হারুন খান ও আশেক খানকে ফুলের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা জানান।

‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বীর বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতার প্রতিশোধ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত সাত দিনব্যাপী রামু মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার শেষ দিনের স্মৃতিচারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন, কক্সবাজার-৩ আসনের সাংসদ রামু মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল। স্মৃতিচারণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, কক্সবাজার জেলা মহিলা আওয়ামী সভানেত্রী কানিজ ফাতেমা মোস্তাক।

রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সাত দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার সমাপনী দিনের স্মৃতিচারণ সভায় সভাপতির বক্তৃতায় আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা বারবার লড়াই-সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছেন। সেই লড়াই-সংগ্রামের মধ্যে আমাদের বিজয় অর্জিত হয়েছে। রামুর মানুষের রক্ত, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের দেশপ্রেমীকের রক্ত। দেশের মুক্তিকামী মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত। রামুর পূর্বপুরুষরা কখনো দেশের সাথে, রামুর মানুষের সাথে বেমাঈমানী করেন নি। রামুর মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। ঐতিহাসিক ভাবে রামুর মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। আমি রামুর মুক্তিযোদ্ধাদের সেলুট জানাই।

বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম-মহাসিচব রামু উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়–য়ার’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মৃতিচারণ সভায় বক্তৃতা করেন, রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের মহাসচিব রিয়াজ উল আলম, সদস্য নির্বাচিত কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য শামুশুল আলম, নুরুল হক কোম্পানী, সোহেল জাহান চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা সম্পাদক মুসরাত জাহান মুন্নী, কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ভি পি মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক রেজা, রামু উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম-মহাসিচব তপন মল্লিক, উপজেলা যুবলীগ নেতা শাহাদাৎ হোসেন, মৎসজীবি লীগ নেতা আনছারুল হক ভূট্টো, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রতন বড়–য়া প্রমুখ।

রামু মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাংলাদেশ বেতার, কক্সবাজারের সংগীত প্রজোযক বশিরুল ইসলামের নির্দেশনায় ও অধ্যাপক নীলোৎপল বড়–য়ার সঞ্চালনায় বিজয় মঞ্চে রাতব্যাপী অনুষ্ঠিত সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানে রামুর সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন, হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। মঞ্চায়ন হয় নাট্যব্যক্তিত্ব মাষ্টার মোহাম্মদ আলমের নির্দেশনায় রামু উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহনে নাটক ‘বদ্যভূমির শেষ দৃশ্য’। সব শেষে অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামে আঞ্চলিক গানের শিল্পী ‘প্রেম সুন্দর বৈষ্ণব ও নীলু চৌধূরী নীলিমা’র দ্বৈত গান।