ঢাকা, রোববার, ৩ জুলাই ২০২২

কক্সবাজারকে অপরাধমুক্ত শ্রেষ্ঠ জেলায় রূপান্তর করা হবে : অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

প্রকাশ: ২০১৭-০১-০৬ ২২:৫৮:২০ || আপডেট: ২০১৭-০১-০৬ ২২:৫৮:২০

কক্সবাজারকে অপরাধমুক্ত শ্রেষ্ঠ জেলায় রূপান্তর করা হবে : অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
মোঃ রেজাউল করিম, ঈদগাঁও::

কক্সবাজার সদর মডেল থানার নবাগত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-রামু সার্কেল) গোলাম মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুছ বলেছেন, কক্সবাজারকে শ্রেষ্ঠ জেলা ও মডেল থানায় রূপান্তরের চেষ্টা চালানো হবে। মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দেয়া হবে। তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অপহরণকারী, দূর্বৃত্ত ও ডাকাতদের অস্তিত্বহীন করা হবে বলে তাদের জন্য সতর্কবার্তা দেন। তিনি ৬ জানুয়ারী রাতে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। তদন্ত কেন্দ্র তৃতীয় আইসি আমজাদ আলী চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন, কক্সবাজার জেলা পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত সদস্য সোহেল জাহান চৌধুরী, ঈদগাঁও চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম, ইসলামাবাদ চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক, ইসলামপুর চেয়ারম্যান আবুল কালাম, জালালাবাদ চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান রাশেদ, পোকখালী চেয়ারম্যান রফিক আহমদ, ভারুয়াখালী চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান, চৌফলদন্ডী চেয়ারম্যান ওয়াজ করিম বাবুল, সদর উপজেলা আ.লীগ সভাপতি আবু তালেব, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. শামসুল হুদা, ঈদগাহ জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দীন, ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ইনচার্জ মো. খায়রুজ্জামান, টু-আইসি দেবাশীষ সরকার, সদর উপজেলা আ.লীগ সহ-সভাপতি হুমায়ুন তাহের চৌধুরী হিমু ও ঈদগাঁও ইউনিয়ন আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক তারেক আজিজ। বৃহত্তর ঈদগাঁওর বিভিন্ন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান, সদস্য-সদস্যা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক, গ্রামপুলিশ তথা চৌকিদার ও দফাদারসহ সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সভায় দীর্ঘ বক্তব্যে মডেল থানার ওসি বলেন, সরকার জেলার সদর এবং রামু এলাকাকে নিয়ে নতুন সার্কেল ঘোষণা করায় পুলিশী সেবা আরো বৃদ্ধি পাবে। জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তায় পুলিশের ভূমিকা বাড়বে। তিনি জন হয়রানি লাঘবে ডাকাত, ছিনতাইকারী, মাদক ও ফৌজদারী মামলার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বৃহৎ এ এলাকাতে পুলিশের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশের ব্যাপকতার উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এলাকাবাসীর সম্মান ও আস্থা অর্জনের মাধ্যমে দূর্ণীতি ও স্বজন প্রীতির ব্যাপারে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে এর জন্য জনপ্রতিনিধিদের সহায়ক ভূমিকা রাখতে হবে জানিয়ে বলেন, স্থানীয়ভাবে ছোটখাট অপরাধকর্মের সমাধান হয়ে গেলে পুলিশের ঝামেলা কমে আসবে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন থানায় মাদক মামলা রেকর্ড করা হলেও আইনের ফাঁক ফোকর ও মিথ্যা রিপোর্ট দিয়ে অভিযুক্তরা জামিনে বেরিয়ে আসছে। আবার কারাগারের অবস্থাও এমন যে, অতিরিক্ত আসামী রাখতে গিয়ে মানবিকতার বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হয়। তিনি মাদকমুক্তির জন্য জনসচেতনতার উপর গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে ঐশির ঘটনা তুলে ধরে বলেন, মাদকের ভয়াবহতা জঘন্য। সম্মিলিত চেষ্টায় একে রোধ করতে হবে। তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারে উৎপাদিত সর্বগ্রাসী মাদক এ এলাকায় বিস্তার হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, মাদকসেবীদের শরীরের বিভিন্ন অর্গান দিন দিন ক্ষয় হয়ে যায়। অনুপ্রবেশরত রোহিঙ্গারা এদেশের নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যা ইচ্ছা তা করে যাচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলা পরিষদ সদস্য সোহেল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা তথা ঈদগাঁওর ৫ ইউনিয়নে মাদকের বেচাকেনা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। ঈদগাঁও চেয়ারম্যান বলেন, ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্র ফকিরা বাজারে স্থানান্তরিত হলে বাজার ও ব্যাংক পাড়া অরক্ষিত হয়ে উঠবে। তিনি বাজার এলাকায় পুলিশী চৌকি স্থাপনের মাধ্যমে মাদক সেবক, বিক্রেতা ও পাচারকারীদের কঠোর হস্তে দমনের দাবী তুলেন। ইসলামাবাদ চেয়ারম্যান ইউনিয়নের ফকিরা বাজার, বাঁশঘাটা ও হরিপুরে মাদকের ছড়াছড়ির কথা উল্লেখ করে ইউছুপেরখীল ও বোয়ালখালী সড়কে ছিনতাই, ডাকাতি রোধে পুলিশী টহলের দাবী করেন। পোকখালী চেয়ারম্যান রফিক আহমদ তাঁর এলাকায় মাদক সেবক ও বিক্রেতা কমে আসছে জানিয়ে বলেন, চলতি লবণ মৌসুমে লবণ মাঠের মালিকানা ও দখল-বেদখল নিয়ে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অঘটনের আশঙ্কা রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বলেন, হরিপুরে মাদকের রমরমা ব্যবসা চললেও পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি বাঁশঘাটায় রোহিঙ্গাদের সাম্প্রতিক উৎপাতের কথা উল্লেখ করে বলেন, জনপ্রতিনিধিদের এ ব্যাপারে কঠোর ভূমিকা রেখে ইউনিয়নের প্রতিটা ওয়ার্ডকে মাদক মুক্ত করতে হবে। ভারুয়াখালী চেয়ারম্যান বলেন, রশিদ নগর ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ডাকাতরা হাইওয়েতে ডাকাতি ঘটাচ্ছে। এছাড়া তাঁর ইউনিয়নে লবণ মাঠ কেন্দ্রীক নানা অঘটনের আশঙ্কা প্রকাশ করে পুলিশী টহল জোরদারের দাবী জানান। তিনি পুলিশ কর্তৃক বিচার ও মামলার ক্ষেত্রে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের পরামর্শ করলে মামলার সংখ্যা কমে আসবে বলে উল্লেখ করেন। ইসলামপুর চেয়ারম্যান তাঁর ইউনিয়নে মাদক সমস্যার সমাধান দাবী করে বলেন, বৃহৎ এ শিল্প এলাকায় সরকারের ২শ কোটি টাকার বিনিয়োগ ছাড়াও ব্র্যাক, এসিআই, গ্রামীণসহ বিভিন্ন মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানী শিল্প ইউনিট রয়েছে। তিনি বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে শিল্প নগরী ইসলামপুরের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়ে বলেন, একটি আইন প্রত্যাহার করায় ব্যবসা-বাণিজ্যের এ প্রাণকেন্দ্রে একজনের জমি অন্যজনে খতিয়ানের সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জালালাবাদ চেয়ারম্যান বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বৃহৎ বাণিজ্য কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারে নানা সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে। এখানকার আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হলে জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় সাধন করতে হবে। তিনি তেলিপাড়াকে মাদকের জন্য স্পর্শকাতর এলাকা উল্লেখ করে রাবার ড্যাম ভিত্তিক সংঘবদ্ধ চোর ডাকাতেরা বাজার ও ইসলামাবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান। তিনি সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা গঠনকল্পে রাবারড্যাম ভিত্তিক অপরাধীদের চিহ্নিত পূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবী তুলেন। সদর আ.লীগ সভাপতি বলেন, পুলিশ আন্তরিক হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্তরোত্তর উন্নয়ন হবে। ঈদগাহ জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক এলাকার আইন-শৃঙ্খলা তুলনামূলক ভাল উল্লেখ করে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরী ও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। তিনি পথচারী ও বাজারবাসীদের রক্ষায় পাঁহাশিয়াখালী-বোয়ালখালী সড়কের অপ্রীতিকর ঘটনার অবসান চান। ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্র ইনচার্জ দলমত নির্বিশেষে এলাকার সকলের সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছেন জনিয়ে বলেন, উত্থাপিত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি ভারুয়াখালী ও রাবার ড্যাম এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার করা হচ্ছে জানিয়ে অপরাধীদের ব্যাপারে সর্ব সাধারণকে তথ্য দিয়ে সহায়তার আহবান জানান। সদর আ.লীগ সহ-সভাপতি তাঁর এলাকাধীন ৪ থেকে ৭নং ওয়ার্ড পাহাড় বেষ্টিত হওয়ায় এলাকাটি এক সময় অপহরণের স্বর্গরাজ্য ছিল উল্লেখ করে বলেন, কৃষকরা সেখানে নির্বিঘেœ চাষাবাদ করতে পারেনি। তিনি যত্রতত্র ইয়াবা সেবন ও বেচাবিক্রি বন্ধ, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং ইভটিজিং রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবীসহ বাসস্টেশনের নিত্য নৈমিত্তিক অসহনীয় যানজট নিরসনের আহবান জানান। টু-আইসি সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত এলাকা গড়তে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধ পরিকর জানিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে সর্বসাধারণকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ঈদগাঁও আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক কমিউনিটি পুলিশকে কার্যকরের আহবান জানিয়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক এদেরকে কাজে লাগানোর আহবান জানান। অনুষ্ঠানে এএসআই ফিরোজ আহমেদ, মহিউদ্দীন, শাহজালাল, মোর্শেদ, এহেছান, মাঈনুদ্দীনসহ অন্য পুলিশ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।