ঢাকা, রোববার, ৩ জুলাই ২০২২

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে অতিরিক্ত বই !

প্রকাশ: ২০১৭-০১-০৫ ১৯:১৫:২৮ || আপডেট: ২০১৭-০১-০৫ ১৯:১৫:২৮

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে অতিরিক্ত বই !
পলাশ বড়ুয়া:
বইয়ের সংখ্যা বাড়ানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিদ্যালয়গুলো। ধারণাটা এমন, যে বিদ্যালয়ে বইয়ের সংখ্যা যত বেশি সে বিদ্যালয়ের মান তত উন্নত। শিশু শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে চেপে থাকা চড়া মূল্যের বাড়তি বইগুলোর মানও যাচ্ছেতাই।

এদিকে সরকার বৎসরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিলেও ৪ জানুয়ারী উখিয়া উপজেলার কোটবাজারের এক অভিভাবক লাইব্রেরীতে গিয়ে একটি লিষ্ট দেয় এবং বইগুলো আসছে কিনা জানতে চায়। লাইব্রেরী মালিক বই আসেনি মর্মে অভিভাবককে পরে আসতে বলেন। অভিযোগ উঠেছে অসাধু প্রকাশকরা স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের ম্যানেজ করার জন্য বইপ্রতি কমিশন দিয়ে থাকেন। অধিকাংশ স্কুলের শিক্ষার্থীদের বই-খাতা কিনতে লাইব্রেরিতে যেতে দেওয়া হয় না। শিক্ষার আনুষঙ্গিক সব উপকরণ চড়া দামে স্কুল থেকেই কিনতে বাধ্য করা হয়।

রত্নাপালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু নোমান চৌধুরী বলেন, প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ১টি, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে ৩টি এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ৬টি করে বই নির্ধারণ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। অথচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ছাড়া অন্য সব বিদ্যালয়ে বইয়ের ভারে ভারাক্রান্ত শিশুরা। তাদের মূল বইয়ের চার-পাঁচ গুণ সহায়ক বইয়ের বোঝা টানতে হচ্ছে।

অভিভাবকরা মনে করেন বইপত্র দিয়ে শিশুদের সব জান্তা করে তুলতে হবে। তথাকথিত নামিদামি স্কুলে ভর্তি করাতে হবে। বিদ্যালয়গুলোও সেই সুযোগ নিয়ে শিশুদের ওপর একগাদা বই চাপিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি রয়েছে খাতার বিশাল বহর। তাই বেশি বইয়ের ব্যাপারে শুধু সরকারকে দায়ী করলে চলবে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং শিশুদের ঘাড় থেকে বইয়ের বোঝা কমাতে বলেছেন। তার পরও কোনো উদ্যোগ দেখছি না। একটি নির্দিষ্ট বয়সে একটি শিশু কতখানি বোঝা নিতে পারবে, তা বিবেচনা করেই তাকে ততটুকু বোঝা দিতে হবে।’

হেলপ কক্সবাজার এর নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, ‘শিশুদের এত বেশি বই পড়ালে পড়ালেখার প্রতিই তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকে। বেশি বই পড়ালেই শিক্ষার্থী মেধাবী ও দক্ষ হবে- এমনটা ভাবা ঠিক নয়। স্কুলগুলোতে কী বই দিচ্ছে এবং কিভাবে পড়াচ্ছে, তাও বিবেচনায় আনতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, যাতে শিশুরা আনন্দঘন পরিবেশে শিখতে পারে। না হয় শিশুর্দে বিকাশে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিবে।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর জ্ঞানার্জনের নামে বাড়তি চাপ কখনই সঠিক নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের চাপে এক প্রকার বাধ্য হয়েই অভিভাবকরা কিনে দিচ্ছেন এসব বই।