ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

উখিয়ায় তরি-তরকারির দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে

প্রকাশ: ২০১৬-১১-০১ ১৯:৫৪:৪২ || আপডেট: ২০১৬-১১-০১ ১৯:৫৪:৪২

vegitableআবছার উদ্দিন শান্ত, উখিয়া:

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ছোট বড় ১৩টি হাট বাজারে তরকারী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ভোক্তাদের কাছ থেকে আকাশ চুম্বি দাম হাঁকাচ্ছে। দরিদ্র ও অসহায় ভোক্তাদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় অনেকেই নুন আর ডাল ভাত খেতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব বাজার গুলোর সিন্ডিকেট সদস্যগণ শীত মৌসুমের শুরুতেই অতিরিক্ত দাম হাঁকার কারণে ক্রেতা সাধারণেরা বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক স্টেশন কোটবাজারের তরি-তরকারি ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ ভোক্তা ও ক্রেতা সাধারণের সমাগমের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত গলাকাটা অর্থ আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজার উন্নয়নের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা ইজারা নিয়ে উপজেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রন করার নিয়ম থাকলেও প্রশাসনের উদাসিনতার সুযোগ নিয়ে অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী গরীবের পকেট খালি করছে। যা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কিংবা এলাকায় প্রতিনিধিত্বকারী জন প্রতিনিধিদের নজরে নেই। এছাড়াও পঁচা, দুর্গন্ধ ও অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে কোটবাজার স্টেশনের বৃহত্তর মাছ ও তরকারী বাজারের নিত্য দিনের পরিবেশ হয়ে দাড়িয়েছে। তাছাড়া বিশাল এ মাছ তরকারী বাজারের বর্জ্য নিক্ষেপের কোন নির্দিষ্ট স্থান না থাকলেও যত্রতত্রে ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপের ফলে পুরো বাজারের পরিবেশ দূর্গন্ধময় হয়ে উঠে। শুধু তাই নয় বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নিরবতার সুযোগ নিয়ে অথবা নির্ধারিত দ্রব্য মুল্যের সাইনবোর্ড না দিয়ে দিনের পর দিন তারা বিভিন্ন প্রকার তরি-তরকারির দাম বৃদ্ধি করে চলছে।

এদিকে উপজেলার মরিচ্যা বাজারের অবস্থা আরো ভয়াবহ। এ বাজারটির উপর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিনের পর্যবেক্ষন তদারকির অভাবে অসাধু মাছ ও তরি-তরকরি ব্যবসায়ীরা একই কায়দায় ক্রেতা সাধরণের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম লুটে নিচ্ছে। মরিচ্যা বাজার ব্যবসায়ী নুরুল আলম বলেন, বাজারের উপর কোন ধরণের সরকারি খবরদারী বা নিয়ন্ত্রন না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মত দাম হাতিয়ে নিচ্ছে। সিন্ডিকেটের যাঁতাকলের কবলে পড়ে ক্রেতা সাধারণকে অতিরিক্ত অর্থ খোয়াতে হচ্ছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ ইসলাম মেম্বার বলেন, সম্প্রতি বাজারের ব্যবসায়ীরা গরীবের পকেট কাটার উদ্দেশ্যে একটি সিন্ডিকেট গঠন করেছে। যা এলাকার দরিদ্র জনসাধারণের নিকট থেকে তরি তরকারি বেচা-বিক্রির অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশল হিসাবে এ সিন্ডিকেট।

উখিয়া সদরের দারগা বাজারের অবস্থা আরোও কাহিল। এখানেও একই ভাবে কাঁচামাল তরি-তরকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পুরো শীত মৌসুমকে কাজে লাগাতে তৎপর হয়ে ওঠেছে। শাক-সবজি, তরি-তরকারি ও বিভিন্ন ফলমূল উৎপাদনের মোক্ষম সময় হচ্ছে এ শীত মৌসুম। এই মৌসুমে তরি-তরকারির দাম ক্রেতা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার কথা থাকলেও উপজেলার বিস্তৃত বাজার গুলোতে এ নিয়মের কোন বালাই নেই। এ ছাড়াও রোহিঙ্গা অধ্যুাষিত অঞ্চল কুতুপালং বাজারের অবস্থা আরো নাজুক। এখানে একজন ব্যক্তির উপর নির্ভর করেই এ বাজারটি চলে। উনার ইচ্ছেতেই বাজারে সব কিছু চলে। এখানে দরদাম উঠানামার ক্ষেত্রেও এ ব্যক্তির উপর নির্ভর করে। বর্তমানে বাজারটিতে অন্তত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নিয়মিত বাজার করে থাকেন এ কুতুপালং বাজার থেকে। এ সব রোহিঙ্গাদের পকেট কাটতে কুতুপালং এর মাছ ও তরি-তরকারি ব্যবসায়ীরা আকাশ ছোঁয়া দাম আদায় করে নিচ্ছে। স্থানীয়রা এ সব বাজার গুলো অনুসন্ধান, পর্যবেক্ষন, তদারকি ও অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে দ্রুত অসাধু ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে বলে একাধিক ভোক্তা ও ক্রেতা অভিযোগ করে জানিয়েছেন। উখিয়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ একরামুল হক বলেন, বাজার সিন্ডিকেটের উপর আমাদের নজর নেই। তারপরও ভোক্তাদের স্বার্থে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

কোটবাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি কবি আদিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আগামী আইন শৃংখলা মিটিংয়ে সিন্ডিকেট ব্যাসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। কেউ অনিয়ম করে দরিদ্র ক্রেতা সাধারণকে হয়রানি করে রেহাই পাবে না বলে তিনি জানান।