ঢাকা, রোববার, ২২ মে ২০২২

৩৩ রান করলেই ইতিহাস সেরা জয় হতো বাংলাদেশের

প্রকাশ: ২০১৬-১০-২৪ ১১:০৪:৩১ || আপডেট: ২০১৬-১০-২৪ ১১:০৪:৩১

bd-teamঅনলাইন ডেস্ক:

কি কঠিন একটা স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছানো। আর কতোই না সহজে সেই স্বপ্নটা ভেঙেচুরে যায়! বেন স্টোকসের হাতেই বাংলাদেশের সেই স্বপ্নের সমাধী হলো। চট্টগ্রামে শেষ দিনে ৩৩ রান করলেই ইতিহাস সেরা জয় হতো বাংলাদেশের। কিন্তু ২৩ রানের আক্ষেপ ঢুকে পড়লো ইতিহাসের পাতায়। সাব্বির রহমান স্বপ্নটা কাঁধে বয়ে নিচ্ছিলেন। তিনি ৬৪ রানে অপরাজিতই থাকলেন। কিন্তু স্টোকসের ৩ বলের মধ্যে তাইজুল ইসলাম (১৬) ও শফিউল ইসলাম (০) এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়লেন। ২২ রানের বিখ্যাত এক জয় তুলে নিয়ে মুক্তির আনন্দে মাতলো ইংল্যান্ড।

এটা তাদের জন্য মুক্তির আনন্দই বটে। চতুর্থ দিনটা বাংলাদেশ রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ৮ উইকেটে ৮ উইকেটে ২৫৩ রানে দাঁড়িয়ে। লক্ষ্য ২৮৬। আর মাত্র ৩৩ রান। সাব্বির ৫৯ রানে অপরাজিত। ইংলিশদের স্বপ্নে নির্ঘাৎ গেল রাতে বারবার হানা দিয়ে ফিরেছেন সাব্বির। তাইজুল অপরাজিত ছিলেন ১১ রানে। কিন্তু লেজের ২ ব্যাটসম্যানকে ঢেকে রাখা হলো না সাব্বিরের। সকালের ২১ বলের মধ্যে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ধুলোয় লুটালো সময়ের বাধা জয় করে মুখে মুখে ফেরার মতো এক জয়ের গল্প। ২৬৩ রানে অল আউট বাংলাদেশ! ১৬ কোটি মানুষের দেশে ছড়িয়ে পড়ে ২৩ রানের কষ্ট। দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে যাওয়ার স্বস্তি ইংল্যান্ডের।

প্রায় ১৫ মাস পর টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশ এই ম্যাচ পঞ্চম দিনে নেবে তাও আগে ভাবেনি কেউ। শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তবু ম্যাচটায় সেয়ানে সেয়ানে লড়েছে টাইগাররা। অসম্ভব কঠিন এক উইকেটে অসাধারণ লড়ার গল্প দুই দলের। চতুর্থ দিনের শেষটা যেখানে গিয়ে দাঁড়ায় সেখান থেকে দুই দলই জয়ের কথা ভাবতে পারে। ইংল্যান্ড অবশ্য এগিয়ে ছিল কিছুটা। হিসেব বাংলাদেশের ৩৩ রানের। ইংল্যান্ডের ২ উইকেটের। রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচকে শেষ সকালো আরো রোমাঞ্চকর হতে দেননি স্টোকস। চতুর্থ ইনিংসে এর আগে সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড বাংলাদেশের। নতুন রেকর্ড লেখা হলো না।

স্টুয়ার্ট ব্রডের সাথে আক্রমণ শুরু স্টোকসের। তাকে দিনের দ্বিতীয় ওভারে বাউন্ডারি মারেন তাইজুল। ওভারের ৪টা বল সামলেছেন বেশ ভালো ভাবেই। তাইজুলকে সাব্বিরের ডানা দিয়ে ঢেকে রাখার কথা। চেষ্টা ছিল না তা তো আর নয়। কিন্তু ১টি রানও তো সোনার চেয়ে দামী এখানে। ব্রডের পরের ওভারের ৩ বল তাই খেলতে হয় তাইজুলকে। শেষ বলে ১ রান নেওয়ার পরের ওভারে আবার স্টোকসের মুখোমুখি তিনি। ১০ নম্বর ব্যাটসম্যানকে প্রথম বলেই রিভিউতে ফিরিয়ে দেন স্টোকস। শফিউল এসে এক বল পর স্টোকসের শিকার।

এই ইনিংসে ২ উইকেট স্টোকসের। এই দুই উইকেটই। আর গোটা ম্যাচে ইংল্যান্ডকে সবচেয়ে আনন্দে ভাসানোর ২ উইকেট উঠে গেল তার হাতেই। সেই সাথে স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেটের পর এই ২, ১৮ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৫। অসাধারণ এক ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতার গল্পটা বুড়ো হলেও করতে পারবেন স্টোকস! আর যতোবার বাংলাদেশে আসবে তার নাম, তাকে ভিলেন হিসেবেই বিবেচিত করা হবে প্রতিবার!