ঢাকা, রোববার, ৩ জুলাই ২০২২

যুব উন্নয়ন অফিসে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ !

প্রকাশ: ২০১৫-১২-২৮ ১৭:০৯:১৪ || আপডেট: ২০১৫-১২-২৮ ১৭:০৯:১৪

 

এম. দুলাল মিয়া:
সরকার দেশের বেকারত্ব দুরীকরণে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করলেও এসব বেকারত্ব লাঘব করা যাচ্ছেনা দুর্নীতিবাজ অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে। বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ গ্রহন করে বেকারত্ব দূর করার জন্য দেশের প্রতি জেলা ও উপজেলায় যুবউন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে সরকার। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বেকার যুবকরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণ, ইলেক্ট্রিক ও বিভিন্ন কারিগরী প্রশিক্ষণ গ্রহন করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। কিন্তু কক্সবাজার জেলার যুবউন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যে কোন প্রশিক্ষনের জন্য মনোনিত হতে গেলে গুনতে হয় অবৈধ উৎকোচ। বিগত কয়েক বছর ধরে জেলার শিক্ষিত বেকার যুবকরা কম্পিউটার প্রশিক্ষনের জন্য আবেদন ফরম জমা দেওয়ার পর পরই শুরু করতে হয় অবৈধ উৎকোচ দেওয়ার দৌড়-ঝাপ। উৎকোচ না দিলেই প্রশিক্ষনের জন্য মনোনিত হওয়া কষ্টসাধ্য এমনটাই অভিযোগ জেলা যুব উন্নয়ন অফিসের বিরুদ্ধে। ৩৪তম কম্পিউটার ব্যাচের নাসির উদ্দিন জানান, কম্পিউটার প্রশিক্ষনের জন্য যতই ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেওয়া হয়না কেন উৎকোচ না দিলে মনোনিত হওয়া যায়না। ৩৫তম ব্যাচের ঈদগড়ের হুমায়ূন কবির জানান, আমি যুব উন্নয়ন অফিসের একজন কর্মকর্তাকে ২৫০০টাকা উৎকোচ দিয়ে মনোনিত হয়েছিলাম। কক্সবাজার ঘোনার পাড়া এলাকার নাসিমা আকতার জানান, টাকা দিলেই এ অফিসে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ না করেও মনোনিত হওয়া যায়। এদিকে আগামী ২জানুয়ারী ৩৬তম কম্পিউটার ব্যাচের ভাইভা শুরু হওয়ার। উক্ত ভাইভা শুরু হওয়ার আগেই বিভিন্ন কৌশলে প্রশিক্ষণার্থীদের নিকট অফিমের কর্মকর্তারা টাকা হাতিয়ে নিতে একধরণের ঘুষ বাণিজ্যে নেমে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্চুক রামু উপজেলার এক মহিলা প্রশিক্ষণার্থী জানান, মুঠোফোনের মাধ্যমে কথা বলে আমি অফিসের এক কর্মকর্তাকে ১৫০০টাকা দিয়েছি। তিনি আমার মনোনিত হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত দিয়েছেন।

durnite

এদিকে সচেতন মহলের অভিযোগ সরকার যেখানে বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য কোটি কোটি টাকা কর্মকর্তাদের ভেতন ভাতা দিচ্ছে এবং প্রশিক্ষণার্থীদের আবাসিকভাবে খরচ পরিবহন করছে , সেখানে যদি অবৈধ উৎকোচের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী মনোনিত করা হয়, তাহলে দেশে দূর্ণীতি প্রতিরোধ হবে কি করে? এদিকে আগামী ২জানুয়ারী তারিখে অনুষ্টতিব্য ৩৬তম ভাইভা বোর্ডে বাইরের প্রশিক্ষক কিংবা বাইরের শিক্ষক দ্বারা বোর্ড বসানোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল। অন্যথায় ভাইভা স্বচ্চ হবেনা বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তারা। উৎকোচ গ্রহণ করে প্রশিক্ষণার্থী মনোনিত করার ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রশিক্ষক মাসুদ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, প্রশিক্ষণার্থী করার ব্যাপারে কোন ধরণের অবৈধ উৎকোচ গ্রহন করা হয়না। কেউ যদি এব্যাপারে অখিযোগ করে তাহলে সেটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার বলেও জানিয়েছেন তিনি।