ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

মহেশখালীতে মাউস এর বৃত্তি প্রতারণা !

প্রকাশ: ২০১৫-১২-২৫ ২৩:২০:০৯ || আপডেট: ২০১৫-১২-২৫ ২৩:২০:০৯

Mohesh khali -PIC-2512,15

আবদুর রাজ্জাক,মহেশখালী:

কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাউস সংস্থা কর্তৃক শিশুদের মেধা বৃত্তি পরীক্ষার নামে লাখ টাকার বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ও নানা বিশৃংখলার মধ্যে দিয়ে একদিন ব্যাপী পরীক্ষা শেষ হয়েছে।  মহেশখালী উপজেলার খবরের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল মাউসের আয়োজিত অর্থ বানিজ্যর মেধা বৃত্তি পরীক্ষা।

২৪ ডিসেম্বর ১৫ বৃস্থপতিবার সকাল ৮টা শতশত অভিভাবক ছেলে মেয়েদের নিয়ে মহেশখালী কলেজ কেন্দ্র উপস্থিত হয় মাউস মেধা বৃত্তি পরীকায় অংশ গ্রহনের জন্য । মহেশখালী ডিগ্রী কলেজে কেন্দ্র উপস্থিত হয়ে দেখতে পায় মাউস এর নানা অব্যবস্থাপনা, বিশৃংখল পরিবেশ, ছাত্র-ছাত্রীদের আসন সংকট ও হই হুল্লুড় অবস্থা। সকাল ১০টার পরীক্ষা শুরু হয় সকাল ১১টায়। পরীক্ষা শুরুর অন্তত এঘন্টা পরে ও ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষার হলে এসে আসন খুজতে থাকে।এমন সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পেইজ বুক সহ বিভিন্ন অনলাইনে প্রচার হলে মহেশখালী কলেজ কেন্দ্র ছুটে চলে একদল সংবাদ কর্মী।এ সময় অনেক পরীক্ষার্থী নানা অভিযোগ বলে হল ত্যাগ করে চলে যাচ্ছে।এসময় মহেশখালী কলেজের অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,তিন মাস পূর্ব মাউস নামক একটি সংস্থার পক্ষ থেকে মেধা বৃত্তিপরীক্ষার কেন্দ্র’র জন্য আবেদন করলে শিক্ষার স্বার্থে আমি বন্ধ কালিন সময়ে পরীক্ষার জন্য মহেশখালী কলেজের হল ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করি।অন্য সব ব্যবস্থাপনার জন্য মাউস কতৃপক্ষ দায়ী। আমার কলেজ ও শিক্ষক কিংবা কর্মচারী কেহ পরীক্ষার জন্য দায়ী নয়।

মহেশখালী কলেজ কেন্দ্রে অবস্থানরত মাউস এর নির্বাহী পরিচালক পরিচয় দানকারী গোলামুর রহমান,জানান তার ৭জনের মালিকানাধীন চট্টগ্রাম ভিত্তিক একটি এনজিও সংস্থা মানব উন্নয়ন সংস্থা-মাউস । চট্টগ্রামে শহরে তারা একটি পথ শিশুদের স্কুল, একটি নাইট স্কুল ও শিশু শ্রমিকদের স্বুল পরিচালনা করে থাকে । অন্যদিকে চট্টগ্রাম শহরের বাহিরে বিভিন্ন উপজেলায় মেধা বৃত্তি পরিচালনা করে আসছে । এরই অংশ হিসাবে মহেশখালীতে এ মেধা বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন ।

“সময়ের সাথে প্রতিভার খুজে” এই শ্লোগান সামনে রেখে মহেশখালীর প্রতিটি সরকারী বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রসা, মাধ্যমিক সকল শ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্য প্রতি ছাত্রের নিকট থেকে ১৫০ টাকা করে পরীক্ষা ফিঃ আদায় করে। ঐ ফিঃ থেকে অংশ গ্রহনকারী ছাত্রদের প্রতিষ্টান প্রধানরা ৩০টাকা হারে জন প্রতি ছাত্রের জন্য কমিশন প্রাপ্ত হবেন।

এ কারনে মাউসের মেধা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনা মূলক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।পরীক্ষা শেষে চুড়ান্ত ভাবে কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তার হিসাব দিতে পারে নি আয়োজক কতৃপক্ষ। কারও হিসাবে ১২শত আবার কারো হিসাবে ১৩৫০জন হতে পারে। পরীক্ষাটি নিয়ে নিয়মিত হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, পরীক্ষার দিন দিন পূর্বে অনেক স্কুল ও মাদ্রসার শিক্ষার্থীদের নিবন্ধীত করেছে। ফটোষ্ট্যট করা প্রশ্ন পত্র নিয়ে অনেক অভিভাবক অভিযোগ তুলেন,এটা সাধারণ মানুষের কাছে ব্যবসা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমার শিক্ষা বিস্তারের নামে ডাকাতি খানায় শিশুদের নিয়ে আসছি। শিশু শ্রেনীর শিক্ষাথীদের সাথে নবম দশ শ্রেনীর ছাত্রদের একই টেবিলে পরীক্ষা দেওয়ার সময় শিশুরা বড়দের বলছে আপু, আংটি এটি কি? বড়রা যেমন পরীক্ষা দিতে বার বার বিরক্ত বোধ করছে তেমনী অনেক শিশুর অভিভবকরা পরীক্ষার হলে ডুকে লিখা শিখিয়ে দিয়েছে ছেলে মেয়েদের। কোন নিয়ন্ত্রণ ছিলান এটা যেন বড় লোকদের মেজবানের আয়োজনের সামিল। এব্যাপারে মাউসের নির্বাহী পরিচালক, গোলামুর রহমান , নিজেই পরীক্ষায় অসচ্ছতার কথা শিকার করেন। এদিকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর অভিভাবক নুরুল আলম, রেনুয়ারা বেগম, আলমগীর হোসেন সহ একাধিক জনরা বলেন, জীবনে এত বৃত্তি পরীক্ষা দেখেছি ,এক টেবিলে ৬/৭জন বসে পরীক্ষা দেয়ার চিত্র কখনো দেখি নাই। এব্যাপারে , মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভার-প্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার ভূমি নোমান হোসেন জানান, এ বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার সাথে সংশ্লিস্ট গোলামুর রহমান ও আমিনুল কহ তলব করা হয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজূলল করিমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে শিক্ষা নিয়ে বানিজ্য করার প্রমান হলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হতে পারে।

মহেশখালীর সচেতন মহলের দাবী,মেধা পরীক্ষার নামে শিক্ষা নিয়ে কিছু লোকের বানিজ্য চরম অবহেলার বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাই- হাই এনজিও র মতো আরো অনেকে শিশুদের হয়রানী করতে পারে।