ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

চৌফলদন্ডীর ১৫ বছরের মেধাবী শিক্ষার্থীকে জোর পূর্বক বিয়ের চেষ্টা

প্রকাশ: ২০১৫-১২-২৪ ২২:১৩:১১ || আপডেট: ২০১৫-১২-২৪ ২২:১৩:১১

ballo.

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের হায়দার পাড়া গ্রামের ছৈয়দ নুরের কন্যা নাসরিন জাহান নামের ১৫ বছরের এক শিক্ষার্থীকে জোর পুর্বক বিয়ে দেয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছে তার পরিবার। ঐ ছাত্রী স্থানীয় এক মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী। অভিযোগে প্রকাশ, ৫ম ও ৮ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় এ+ প্রাপ্ত নাসরিন জাহান ১০ম শ্রেণীর টেস্ট পরীক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করলেও অভিভাবকের কাছে তাকে হার মানতে হচ্ছে। ঐ শিক্ষার্থী লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার শত চেষ্টা করেও তার বড় ভাই মৌলভী আমান উল্লাহই ভুয়া জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে তার বয়স ১৮ এর উপরে করে রাতারাতি কাবিন করে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাত্র হল পশ্চিম পোকখালী এলাকার এক সন্তানের জনক নুরুল আমিন। চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের কর্মরত কাজীর সাথে কাবিন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ১৮ বছরের উর্ধ্বে আমাকে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে কাবিন করিয়েছে। তবে ঐ ছাত্রীটি ১০ শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী বলে পরে শুনেছি। পাত্র ঐ এক সন্তানের জনকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মেয়ের পিতা ছৈয়দ নুর ও তার ভাই মৌলভী আমান উল্লাহই তথ্য গোপন করে আমার সাথে কাবিন করিয়েছে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে কাবিন ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করলেও আমান উল্লাহ আমার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। ফলে ঐ বিষয়টি এখনো অমিমাংসিত রয়েছে। মেয়ের পিতা ছৈয়দ নুরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার বড় ছেলে আমান উল্লাহই ভাল জানবে। আমান উল্লাহর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সে জানায়, আমার বোনের কাবিন ভেঙ্গে ফেলতে চাইলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে সে অপ্রাপ্ত এবং কিভাবে ভুঁয়া জন্ম নিবন্ধন দিয়ে কাবিন নামা করেছে তা জানতে চাইলে সে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। বাল্য বিয়ে সম্পর্কে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন অবস্থাতেই এ বিয়ে হতে পারে না। উল্লেখ্য, মেয়ের জন্ম তারিখ ২৬/১/২০০০ইং। এভাবে বাল্য বিবাহ রোধ করা না গেলেই জনসংখ্যা এমনতো বৃদ্ধি হচ্ছে, তাছাড়া অকালে ঝরে যাবে মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন। তাই দ্রুত গতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।