ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

টেকনাফে চাঞ্চল্যকর ইছমত আরা হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা, খুনীরা অধরা

প্রকাশ: ২০১৫-১২-২৩ ১৪:৫২:৪০ || আপডেট: ২০১৫-১২-২৩ ১৪:৫২:৪০

pic 23,12.2015

এম বশর চৌধুরী, উখিয়া :

কক্সবাজারের টেকনাফের চাঞ্চল্যকর ইছমত আরা (১৮) হত্যার ঘটনায় অবশেষে আদালতে মামলা হয়েছে। এতে ৬ জনকে আসামী করা হয়। নিহত ইছমত আরা টেকনাফ পৌরসভার ইসলামাবাদ গ্রামের রেজাউল করিম বাবুর্চির মেয়ে। ৩ ডিসেম্বর রাতে সংঘবদ্ধ খুনী চক্রের লোকেরা তাকে অপহরনের পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শ্বাসরোধ করে নির্মম ভাবে খুন করে। তৎসময়ে খুনী চক্রের ২ সদস্য মিয়ানমার নাগরিককে টেকনাফ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও তাহাদেরকে হত্যা মামলার আসামী না করে বৈদেশিক নাগরিক সম্পর্কিত আইনের ১৪ ধারা মতে মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরন করে এবং অন্যান্য খুনীরা রহস্য জনক কারনে অধরা থেকে যায়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা কান্ডের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু পুলিশ সহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা খুনীদের গ্রেপ্তারে তৎপর না থাকা এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে অনীহা থাকায় অবশেষে নিহত ইছমত আরার পিতা রেজাউল করিম বাদী হয়ে ১৫ ডিসেম্বর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালত কক্সবাজারে হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- সি আর ৩৯৫/১৫ (টি)। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ নিয়মিত মামলা হিসাবে গন্য করার জন্য টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে নির্দেশ দেন বলে জানা যায়। মামলায় টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যং পাড়ায় বসবাসকারী ছৈয়দ হোছনের ছেলে ওমর ফারুক, মৃত আলী জোহারের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, হাজী সোনা আলীর ছেলে মোহাম্মদ ইছমাইল, ওমর ফারুকের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী সেতারা বেগম, ছৈয়দ হোছনের স্ত্রী সাজু বেগম সহ ৬ জনকে আসামী করা হয়। হত্যা কান্ডের ১দিন পর টেকনাফ থানার এস.আই সাফায়েত আহম্মদ বাদী হয়ে টেকনাফ থানার মামলা নং- ০৫, তারিখ ০৪/১২/২০১৫ ইং, ধারা- বৈদেশিক নাগরিক সম্পর্কিত আইনের ১৪ ধারা দায়ের করে খুনী চক্রের সদস্য রোহিঙ্গা নাগরিক ওমর ফারুক ও আনোয়ারা বেগম কে গ্রেপ্তার করে কোর্টে প্রেরন করে।

আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেজাউল করিম বাবুর্চির মেয়ে ইছমত আরা (১৮) কে ৭/৮ বছর পূর্বে রোহিঙ্গা নাগরিক ওমর ফারুক (২৫) বিয়ের প্রস্তাব দিয়াছিল। সে মিয়ানমারের নাগরিক হওয়ায় পরিবারের লোকজন বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যখ্যান করে। উক্ত কারনে গত ২৯ অক্টোবর রাতে উক্ত ওমর ফারুক সহ খুনী চক্রের লোকেরা ইছমত আরা (১৮) কে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ইছমত আরার পিতা তার মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে মনে করে বিভিন্ন স্থানে খোঁজা খুজি করে না পাওয়ায় টেকনাফ থানার সাধারন ডায়েরী নং- ১২৬০, তারিখ ৩০/১০/২০১৫ ইং দায়ের করে। পরবর্তীতে ৩ ডিসেম্বর রাত অনুমান ১২:০০ ঘটিকার সময় টেকনাফ থানা পুলিশ ফাসিতে ঝুলে থাকা অবস্থায় টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যং পাড়ার মোঃ ইছমাইল (২৭) এর ভাড়া বাসা থেকে ইছমত আরার লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়া লাশের ময়না তদন্ত করার পর পিতার নিকট হস্তান্তর করেন। উক্ত হত্যা কান্ডের ঘটনা নিয়ে ইছমত আরার পিতা টেকনাফ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করলে পুলিশ মামলা নেয়নি। এই ঘটনায় টেকনাফ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কমিশনার মোঃ ইউনুছ একটি অভিযোগ দিলে পুলিশ টেকনাফ থানার অপমৃত্যু মামলা নং- ০১/১৭, তারিখ- ০৩/১২/২০১৫ ইং দায়ের করে। নিহত ইছমত আরার মাতা হাফেজা খাতুন (৪২) জানান, মৃত্যুর পর তার মেয়ের গলায়, মুখে, দুই হাতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। ইছমত আরার পিতা রেজাউল করিম বাবুর্চি কন্যা হত্যার বিচার দাবী করে কান্নাকাটি করে সাংবাদিকদের জানান, খুনীরা তার মেয়েকে অপহরনের পর পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে এবং তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। তিনি খুনীদের গ্রেপ্তারের দাবী জানান।