ঢাকা, সোমবার, ৪ জুলাই ২০২২

সি.এন.জি ও টমটম ভাড়ার নামে চাঁদাবাজীতে সক্রিয় সিন্ডিকেট : জিম্মি এলাকার জনসাধারণ

প্রকাশ: ২০১৫-১২-২২ ২২:২৩:১৫ || আপডেট: ২০১৫-১২-২২ ২২:২৩:১৫

 

বার্তা পরিবেশক:

কক্সবাজার সদর উপজেলার পি.এম.খালী ইউনিয়নের মুহসিনিয়াপাড়া হতে খরুলিয়া সড়কটির দূরত্ব প্রায় ৩ কি.মি.। এই সড়ক দিয়ে ধাওনখালী ও মুহসিনিয়া পাড়ার প্রায় ১০/১৫ হাজার সাধারণ লোকজন এবং স্কুল কলেজে পড়–য়া প্রায় ৫ শত ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন যাতায়াত করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উক্ত সড়কে চলাচলকৃত সি.এন.জি ও টমটম গাড়ীর বৈধ কোন কাগজপত্র না থাকায় প্রধান সড়কে চলাচল করতে না পারায় ড্রাইভাররা উক্ত সড়কে অনিবন্ধিত সিএনজি ও টমটম পরিবহন সমিতি গঠন করে একটি সিন্ডিকেট’র মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে। উক্ত ভাড়ার বড় একটি অংশ পিএমখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহর পকেটে যায় বলে সূত্রে জানা যায়।

অতীতে সড়কটি ইটের থাকলেও বর্তমানে কার্পেটিং হওয়ায় খরচ কমলেও কু-চক্রী ড্রাইভার তথা কথিত সমিতির নামে সিন্ডিকেট করে জোর পূর্বক জনপ্রতি ২০ টাকা হারে বেশি ভাড়া আদায় করছে। তাতে করে এলাকার ছাত্রছাত্রী ও সাধারন জনসাধারণ যেমন হয়রানী শিকার ও জিম্মি হয়ে আছে তেমনি সরকারের উন্নয়নের সুফল না পাওয়ায় সরকারের সুনাম ক্ষুন্নও হচ্ছে।

এছাড়া প্রায় ৯০% লাইসেন্স ও ফিটনেসহীন ড্রাইভার ও গাড়ী সরকারী কর ফাঁকি দিয়ে চলাচল করায় প্রতিনিয়ত যাত্রীদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে এবং উক্ত সড়কে সিএনজি ও টমটম পরিবহন সমিতির প্রভাব কাটিয়ে সমিতির অর্ন্তভূক্ত ছাড়া অন্য কোন সিএনজি ও টমটম গাড়ী চলাচলে বাধা প্রদান করছে। এতে এলাকার ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ জনগন উক্ত সমিতির অর্ন্তভূক্ত গাড়ীতে যাতায়াত করতে এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাই উক্ত সড়কে তথা কথিত অনিবন্ধিত সমিতির আওতায় চলাচল করা লাইসেন্সবিহীন গাড়ীর সিরিয়াল ভেঙ্গে দিয়ে সকল প্রকার যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কটি উন্মুক্ত করে দিয়ে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করার জোর দাবী জানান এলাকাবাসীরা।

এদিকে কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা হতে রামু চৌমহনী ষ্টেশন পর্যন্ত প্রায় ১৬ কি.মি. রাস্তায় সি.এন.জি ও টমটম ভাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকা। বাংলাবাজার হতে খরুলিয়া প্রায় ৩ কি.মি. রাস্তার ভাড়া জনপ্রতি ৫ টাকা হলেও মুহসিনিয়া পাড়া হতে খরুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩ কি.মি. রাস্তার টমটম ও সি.এন.জি ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা করে জোর পূর্বক ভাড়া আদায় করছে।

উক্ত স্থানের টমটম ও সি.এন.জি ভাড়া সরকারীভাবে নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবীতে গত ২৪ নভেম্বর শতাধিক এলাকাবাসী লিখিত আবেদনের মাধ্যমে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে আবেদন করলে, তিনি স্থানীয় ইউ.পি চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে অবহিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু স্থানীয় ইউ.পি চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ উক্ত নির্দেশ অমান্য করিয়া তার নিকটাত্মীয় ভাইপো তথা কথিত সমিতির সভাপতি দ্বারা অন্যায়ভাবে বর্শীভূত হয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে সাধারণ যাত্রী ও ড্রাইভারের মধ্যে ভাড়া নিয়ে প্রতিনিয়ত বাক বিতন্ডার সৃষ্টি হচ্ছে।

এব্যাপারে স্থানীয় শিক্ষক ছলিম উল্লাহ জানান, মুহসিনিয়াপাড়া-খরুলিয়া রাস্তায় প্রতিদিন ভাড়ার নামে এক প্রকার চাদাঁবাজি চলছে। প্রতিনিয়ত ভাড়া নিয়ে ড্রাইভারদের সাথে যাত্রী ও ছাত্রছাত্রীদের কথা কাটাকাটি হচ্ছে। এরকম চলতে থাকলে যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনা হওয়ার আশংকা ব্যক্ত করেন তিনি।

তরুণ ছাত্রলীগ নেতা লাভলু জানান, এই সড়কে ভাড়ার ব্যাপারে এলাকার সাধারণ জনগনকে নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে অনেকবার কথা বলেছি। কিন্তু চেয়ারম্যান আমাদের কথার কোন কর্নপাত না করে তার একগোয়েমিতে বহাল রয়েছে এবং তার নিকটাত্মীয়র মাধ্যমে সিন্ডিকেট গঠন করে মাত্র ৩ কি. মি. সড়কে জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়া আদায় করা এক প্রকার অত্যাচারের শামিল।

নুরুল আজিম জানান, এই সড়কে তথা কথিত সমিতির নামে সিরিয়াল দিয়ে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে লাইসেন্স বিহীন সি.এন.জি ও টমটম ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা আদায় করছে। যার একটি অংশ চেয়ারম্যানের পকেটে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

স্কুল ও কলেজ ছাত্র আব্দুস ছালাম, জাহেদ, সাইদুল, রিফাত, আদনানরা জানান, প্রতিদিন স্কুল ও কলেজে যাওয়ার সময় আমাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ টাকা হারে ভাড়া জোর করে আদায় করছে। অথচ সরকারীভাবে ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার ৫০% নির্ধারণ করা থাকলেও উক্ত সমিতির অর্ন্তভূক্ত ড্রাইভাররা এক প্রকার জোর করে জনপ্রতি ২০ টাকা আদায় করছে। এমনকি একটি সি.এন.জিতে ৫ জনের সীটে যদি ৭/৮ জনও উঠে তখনও জনপ্রতি ২০ টাকা করে ভাড়া করে।

এদিকে স্থানীয় চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন সংস্থার অনুদান দুর্নীতি ও নিজ পকেটে ভরায় সংবাদপত্রে একাধিকবার শিরোনাম হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নামে প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত সমিতির অন্তর্ভূক্ত এক ড্রাইভার জানান, গাড়ীর ভাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। চেয়ারম্যান যেভাবে বলে আমরা সেভাবে ভাড়া নিচ্ছি। এতে আমাদের বা সমিতির করার কিছুই নেই।

এই ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।