ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

উখিয়ায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বাড়ছে

প্রকাশ: ২০১৫-১২-২১ ২০:১১:৫৬ || আপডেট: ২০১৫-১২-২১ ২০:১৪:১৪

নজরদারী প্রয়োজন আইনশৃংখলা বাহিনীর

Yaba-31

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া:

সীমান্ত ঘেষা উপজেলা উখিয়ায় ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। সীমান্তের নাফ নদী ও তুমব্র“ খাল অতিক্রম করে চোরাই পথে আসা ইয়াবার চালান অনায়াসে গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ার কারণে পালংখালী ইউনিয়নে হাত বাড়ালে পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেট। ছাত্র ও যুব সমাজ থেকে শুরু করে উঠতি বয়সের যুবকেরা ইয়াবা আসক্ত হয়ে পড়ার কারণে নৈতিকতা বিচ্ছিন্ন নেশাগ্রস্থদের অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে হতাশায় ভুগছে পরিবার পরিজন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন শত চেষ্টা করেও ইয়াবা পাচার ও ব্যবহার প্রতিরোধ করতে না পারার বিষয় নিয়ে জনপ্রতিনিধিরা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় কড়া সমালোচনা করে অবিলম্বে ইয়াবার আগ্রাসন প্রতিরোধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানিয়ে বলেন, ইয়াবার প্রচলন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অবাধ্য নেশাগ্রস্থ ছেলে কর্তৃক মা-বাবা, ভাই-বোন আক্রান্ত হচ্ছে। বসত বাড়ির সহায় সম্পত্তি নষ্ট হয়ে নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে ঘরে ঘরে অশান্তি বিরাজ করছে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন ইয়াবা ব্যবসায়ীদের শক্ত হাতে দমন করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুর রহমান ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদানের জন্য পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ জানান।

থানা সূত্রে জানা গেছে, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সহ দুইটি মামলার আসামী বালুখালী গ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী এনামুল হক, জাহাঙ্গীর আলম ও বক্তার আহমদ সহ একাধিক মামলায় সম্পৃক্ত পালংখালী ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ী পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও থানার তালিকাভুক্ত এসব ইয়াবা পাচারকারীরা যে কোন সময় পুলিশের হাতে আটক হতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গ্রামবাসী জানান, ১০/১২ জন ইয়াবা পাচারকারীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হলে ৫০ হাজার মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে সক্ষম হবে। এ বক্তব্যের সত্যতা স্বীকার করে পালংখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ফজল কাদের ভুট্টো জানান, ইয়াবা সেবনে আসক্ত হয়ে বর্তমানে ১০/১২ জন যুবক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার কারণে তাদের পরিবার পরিজনের কান্না ও আহাজারিতে বালুখালী গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ইয়াবা পাচার ও ব্যবহারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে শত শত যুবক ইয়াবা সেবনে অভ্যস্ত হয়ে ভারসাম্যহীন পাগল বনে যাবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান জানান, স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা আন্তরিক না হলে ইয়াবা পাচার ও ব্যবহার প্রতিরোধ সম্ভব নয়। তথাপিও লাগামহীন ইয়াবার বাজারজাতকরণ বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।