ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

চেতনার নামধারী নব্য “ফতোয়াবাজ” চক্রটি এখন কাঠমোল্লাদের ভাই-বেরাদার

প্রকাশ: ২০১৫-১২-২১ ১৫:৩৭:১৯ || আপডেট: ২০১৫-১২-২১ ১৫:৩৭:১৯

palas

মঈনুল হাসান পলাশ:
সমাজে কোনো নারী যদি অনুগত না হয়, প্রতিবাদ করে,তাকে কাবু করার মোক্ষম অস্ত্র হয়, তার চরিত্র নিয়ে কথা বলা। তাকে ব্যাভিচারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। ব্যাস, হয়ে গেলো।
হালে ব্যক্তিগত শত্রুতা চরিতার্থ করতেও প্রায় একই ধরণের অস্ত্র ব্যবহার করছে একদল ধান্ধাবাজ ও অনিষ্টকারী। এদের অস্ত্র হলো-“জামায়াত-শিবির আর রাজাকার”। কাউকে অপছন্দ হলে, কারো কাজকর্ম মনোঃপুত না হলে। এমনকী “বস” না মানলেও জামায়াত-শিবির বলে প্রতিষ্ঠা করে ঘায়েল করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রবণতা সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও।
মজার ব্যাপার হলো, যারা এমন করে যাকে তাকে জামায়াত-শিবির বানিয়ে হেনস্থা করার পাঁয়তারায় লিপ্ত, খোঁজ নিলে এদের চোদ্দগোষ্ঠীর মধ্যে গন্ডায় গন্ডায় জামায়াত-শিবির পাওয়া যাবে। এরা ঘর সংসার করে জামায়াত-শিবিরের সাথে। ব্যবসাপাতিও করে। কী করে না?- সেটাই প্রশ্ন। জামায়াত-শিবিরের নিকটাত্মীয় এই লোকগুলোই আবার অন্যকে “জামায়াত-শিবির” বলে ফতোয়া দিয়ে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। এরা এতোই সুবিধাবাদী যে বিয়ে করার সময় বিএনপি-জামায়াত বাছে না। বরঞ্চ সুচতুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জ্ঞাতি-গোষ্টির একজনকে আওয়ামীলীগের সাথে বিয়ে পড়ালে, অন্য জন্যকে বিএনপির সাথে বিয়ে পড়ায়। বাদ যায় না জামায়াতও। পরিকল্পনা এমন যে, ক্ষমতার গদি উল্টে কাল যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তো বিবাহসূত্রে পাওয়া বিএনপি বা জামায়াতের বেয়াইয়ের আশ্রয় পাবে।
চেতনার নামধারী এই নব্য “ফতোয়াবাজ” চক্রটি এখন কাঠমোল্লাদের ভাই-বেরাদার। কাঠমোল্লারা যেমন যত্রতত্র, যাকে তাকে মুরতাদ খেতাব দিয়ে বেড়ায়, এই “চেতনা”-ধারী ফতোয়াবাজরাও তেমনি যাকে তাকে জামাত-শিবির-রাজাকার খেতাব দিয়ে বেড়াচ্ছে।
এরাই আওয়ামীলীগের সবচেয়ে বড় শত্রু। কাল যদি আওয়ামীলীগের ক্ষমতা না থাকে, এরাও আওয়ামীলীগের সাথে থাকবে না। দুঃসময়ে এরা আওয়ামীলীগের প্রতিপক্ষের সাথেই হাত মিলাবে। দূর্ভাগ্যের বিষয়, এখন এই চেতনার নামধারী ফতোয়াবাজদের পোয়াবারো। তারাই যেনো দন্ডমূন্ডের মালিক।
ফুটনোট-আমার কতিপয় শুভাকাংখি প্রায়শঃ আমাকে বলেন, আমার যদি ছাত্রলীগ করার একযুগের ইতিহাস না থাকতো, তবে অনেক আগেই আমাকে “রাজাকার” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতো “চুতিয়া”রা। কারণ, প্রায় নিঃশেষ হতে চলা বাক স্বাধীনতার মূর্মুর্ষ অবস্থার মধ্যেই নিরপেক্ষতার আন্তরিক চেষ্টায় একটা স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করে চলেছি। এবং এটাই নাকী জামায়াত-শিবির হওয়ার জন্য যথেষ্ট!
লেখক- সম্পাদক ও প্রকাশকঃ দৈনিক সমুদ্রকন্ঠ।