ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

সিএইচটি মিডিয়া টুয়েন্টিফোর ডটকম এর প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক নির্মল বড়ুয়া মিলনের জন্ম দিনে শুভেচ্ছা

প্রকাশ: ২০১৫-১২-১৬ ১৯:৩৬:১৫ || আপডেট: ২০১৫-১২-১৬ ১৯:৩৬:১৫

Nirmal

জুঁই চাকমা :: নির্মল বড়ুয়া মিলন অনলাইন নিউজ পোর্টাল এর প্রকাশক ও সম্পাদকদের কাছে অতি পরিচিত একটি নাম ।

আজ মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর এই দিনে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার মানিকছড়িতে ১৯৬৫ সালে জন্ম গ্রহন করেন নির্মল বড়–য়া মিলন।

তার সাথে আমার পরিচয় হয় আরো ৬ বছর আগে ক্রীড়াঙ্গনের মাধ্যমে।

নির্মল বড়ুয়া মিলন দেশে – বিদেশে ক্রীড়া সংগঠক হিসাবে বেশী পরিচিত।

তার জুডো খেলার ছাত্রী হিসাবে আমার পক্ষে যা যা জানা সম্ভব হয়েছে তা তারই জন্ম দিনে সংক্ষিপ্ত আকারে লিখার প্রয়াস মাত্র।

তিনি লেখা পড়া করেছেন তার মামা’র বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান, ১৯৮৩ সালে এসএসসি,১৯৮৩ সালে এইচএসসি ও ২৮ জানুয়ারী ২০০৫ সালে জাপান কোদোকান জুডো ইন্সটিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন জুডোতে ডিগ্রি লাভ করেন। তার কর্মজীবন থেকে জানা যায় তিনি ১৯৮৪ সালে ভুমি জরিপ অধিদপ্তরে চাকুরী নেন ২ বছর চাকুরী করার পর, তার পর সে চাকুরী থেকে চলে আসেন, তার পর তিনি চাকুরী নেন তৎকালিন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) বর্তমান বিজিবি’তে স্বাধীন চেতনার মানুষ হওয়াতে সে চাকুরীতে তিনি বেশী দিন ছিলেন না ১৯৯১ সালে সেই চাকুরী থেকে চলে আসেন। তার পর তিনি সিকিউরিটি ইনচার্জ হিসাবে চাকুরী নেন বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় কয়েক মাস পর সে পত্রিকাতে তিনি ষ্টাফ রিপোর্টার হিসাবে কাজ শুরু করেন। তার স্ত্রীর চাকুরীর সুবাদে তিনি চলে যান দ্বীপ জেলা ভোলায়। ভোলা গিয়ে তিনি চাকুরী নেন দৈনিক আজকের ভোলা পত্রিকায়, দৈনিক আজকের ভোলা পত্রিকায় তিনি সারকুলেশন ম্যানেজার,প্রেস ম্যানেজার,ষ্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক আজকের ভোলা পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলী সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

ভোলায় থাকাকালিন সময়ে দ্বীপ জেলা ভোলায় প্রতিষ্ঠা করেন ভোলা মার্শাল আর্ট সেন্টার।

নির্মল বড়ুয়া মিলন ভোলা জেলা অবস্থান কালিন সময়ে ভোলা মুসলিম ইন্সটিটিউট, জেলা শিল্পকলা একাডেমী,জেলা ক্রীড়া সংস্থা,প্রেস ক্লাব,জেলা চেম্বর অব কমার্স,শিশু কিশোর সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।

তিনি সরকারী চাকুরীতে থাকালিন সময় ক্রীড়াঙ্গনে জড়িয়ে পড়েন তার সনদপত্র গুলি দেখে লিখতে হল; ১৯৮৯ সালে ১৩ তম জাতীয় জুডো প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহনের মাধ্যমে একজন জুডো খেলোয়াড় তিনি জীবণ শুরু করেন,১৯৯০ সালে ৮ম আন্তর্জাতিক জাপান কাপ জুডো প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করেন,বাংলাদেশ জুডো ও কারাতে ফেডারেশ সে বছর তাকে রেজিঃ নং-১৫০০ কালো বেল্ট প্রথম ড্যান মর্যাদার স্বীকৃতি প্রদান করেন,১০ম জাপান কাপ জুডো প্রতিযোগিতা-১৯৯২ তে অংশ গ্রহন করেন,১৯৯০- ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতি বছর জাতীয় জুডো প্রতিযোগিতায় ও খেলোয়াড় হিসাবে আন্তর্জাতিক জুডো প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করে স্বর্ণ,রৌপ ও তা¤্র পদক দেশকে এনে দিয়েছেন।

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জুডো ও কারাতে ফেডারেশ কালো বেল্ট ২য় ড্যান মর্যাদা স্বীকৃতি ও বি গ্রেড জুডো রেফারী লাইসেন্স প্রদান করেন,১৯৯৭ সালে তিনি জুডো প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূতিতে প্রশিক্ষার্থী হিসাবে অংশ গ্রহন করেন, ২৭ তম জাতীয় জুডো প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন, ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সলিডারিটি এডমিনিষ্ট্রেশন স্কুল থেকে স্পোর্টস লীডার শীপ ডিগ্রি লাভ করেন ও এক বছর আন্তর্জাতিক অলিম্পিক এসোসিয়েশন জুডোতে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক হিসাবে তাকে স্বীকৃতি প্রদান করেন,১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক এসোসিয়েশন রেসলিং এ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক হিসাবে তাকে স্বীকৃতি দেয়, ২০০০ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক এসোসিয়েশন বাংলাদেশে অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মাধ্যমে স্পোর্টস লীডার হিসাবে মর্যাদা ও সনদপত্র দেন, ২০০১ সালে দক্ষিণ এশিয়া কারাতে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের সহকারী টিম ম্যানেজার,২০০৩ সালে বাংলাদেশ জুডো ফেডারেশ এবং জুডো ইউনিয়ন অব এশিয়া কালো বেল্ট ৩য় ড্যান মর্যাদা স্বীকৃতি ও এ গ্রেড জাতীয় রেফারী ও বি গ্রেড আন্তর্জাতিক জুডো রেফারী লাইসেন্স প্রদান করেন,২০০৩ সালে স্বাধীনতা দিবস জুডো প্রতিযোগিতার রেফারী,২০০৪ সালে এক্সিম ব্যাংক বিজয় দিবস জুডো প্রতিযোগিতায় রেফারী, ২০০৫ সালে এক্সিম ব্যাংক ২৬ তম জাতীয় জুডো প্রতিযোগিতায় রেফারী,২০০৫-২০০৬ সালে প্রথম জাতীয় জুনিয়র জুডো প্রতিযোগিতায় রেফারী,২০০৭ সালে এক্সিম ব্যাংক ২৭ তম জাতীয় জুডো প্রতিযোগিতায় রেফারী, ২০০০৯ সালে বাংলাদেশ দলের অফিসিয়াল হিসাবে প্রথম এশিয়া মার্শাল আর্ট গেমস ব্যাংকক এ দায়িত্ব পালন করেন, ২০১০ সালে ১১ তম দক্ষিণ এশিয়া গেমস এর জুডোতে টেকনিক্যাল অফিসিয়াল হিসাবে দাযিত্ব পালন ও ২য় ফজিলাতুননেসা মুজিব আন্তর্জাতিক মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতায় রেফারী,২০১২ সালে আন্তর্জাতিক জুডো সামিট ও সেমিনার, দক্ষিণ এশিয়া ক্যাডেট জুডো প্রতিযোগিতায় মিডিয়া কমিটি ও টেকনিক্যাল অফিসিয়াল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন,২০১৩ সালে ৩য় ফজিলাতুননেসা মুজিব এশিয়ান স্কয়াই চ্যাম্পিয়ানশীপ বাংলাদেশ টিমের টিম ম্যানেজার ও রেফারী, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক কারাতে দো-ইনদো এসোসিয়েশন কর্তৃক নির্মল বড়–য়া মিলনকে বাংলাদেশের প্রধান হিসাবে স্বাকৃতি প্রদান।

বাংলাদেশ জুডো ফেডারেশনের হয়ে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী,বিজিবি,বাংলাদেশ পুলিশ,আনসারসহ দেশের ক্যাডেট কলেজ গুলিতে প্রশিক্ষণার্থীদের জুডো প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এছাড়া তিনি ১৯৯৭ সালে জুডো প্রশিক্ষক হিসাবে চট্টগ্রাম সেনানিবাস ২৪ পদাতিক ডিভিশন এর জিওসি টিমের প্রশিক্ষক ও বিজিবি রাঙামাটি সেক্টরের তত্ত্বাবধানে একজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জুডো রেফারী হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

ক্রীড়াঙ্গনের হয়ে তিনি সিরিয়া,শ্রীলংকা,পাকিস্তান, মায়নমার, ভুটান, নেপাল, ভারত, মালশিয়া, ভিয়েতনাম, জাপান, সিঙ্গাপুর,থাইল্যান্ড ও কাতার ভ্রমন করেন।

নির্মল বড়–য়া মিলন বাংলাদেশ জুডো ফেডারেশন, বাংলাদেশ কুস্তি ফেডারেশন,বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশ,বাংলাদেশ খো খো ফেডারেশন, বাংলাদেশ আরর্চারী ফেডারেশন, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ উশু এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ক্রীড়া এসোসিয়েশনেরসহ বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

নির্মল বড়–য়া মিলনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সংগঠন গুলোর মধ্যে, সিএইচটি মিডিয়া টুযেন্টিফোর ডটকম,ভোলা মার্শাল আর্ট সেন্টার, রাঙামাটি জুডো ও কারাতে এসোসিয়েশন, রাঙামাটি আরচ্যারী ক্লাব, রাঙামাটি তাইকোন্দ ক্লাব, রাঙামাটি শরীর গঠন কেন্দ্র, রাঙামাটি খো খো ক্লাব, পার্বত্য চট্টগ্রাম আরচ্যারী ক্লাব, রাঙামাটি স্কয়াই ক্লাব, রাঙামাটি টেনিকয়েশ ক্লাব, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ক্রীড়া সংস্থা, বাংলাদেশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ক্রীড়া এসোসিয়েশন, রাঙামাটি জেলা অনলাইন প্রেস ক্লাব,বাংলাদেশ প্রাক্তন জুডো খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়–য়া সংগঠন ইত্যাদি।

তিনি সদস্য হিসাবে রয়েছেন রাঙামাটি জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি,বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি),বাংলাদেশ দলিত অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার কমিশন, জেলা চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন (বনপা),বাংলাদেশ অনলাইন প্রেস ক্লাব ইত্যাদি।

ব্যাক্তিগত জীবণে নির্মল বড়–য়া মিলন ২ পুত্র ও ২ কণ্যা সন্তানের পিতা।

আবেগ প্রবণ,সহজ-সরল সংগঠন প্রিয় এই মানুষটিকে নিয়ে আমরা অনলাইন মিডিয়া কর্মীরা গর্ব করতে পারি এতে কোন কারো সন্দেহ নাই।

তার ৫০ তম জন্ম দিনে পেইজ বুক এর বন্ধুরা তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন।

অনলাইন মিডিয়া কর্মী ও নিউজ পোর্টাল প্রকাশক ও সম্পাদকদের পক্ষ থেকে নির্মল বড়–য়া মিলন এর দীর্ঘ আযু কামনা করছি।

লেখক : প্রকাশক ও সম্পাদক

সিএইচটি মিডিয়া টিভি ডটকম।