ঢাকা, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২

এমপিওভুক্তরা ঝুলেই থাকলেন !

প্রকাশ: ২০১৫-১২-১৬ ১৭:২০:৩৭ || আপডেট: ২০১৫-১২-১৬ ১৭:২০:৩৭

দৈনিকশিক্ষা : এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোয় অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি ঝুলেই থাকলো ।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর অর্থবিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার শর্তের বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ঝুলে থাকতে পারেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুত্র নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষকদের বিষয়টি নিয়ে একটু জটিলতা রয়েছে, কয়েকমাস দেরি হতে পারে, শর্তের সুপারিশ রয়েছে। তাই এখনই মন্তব্য করতে পারছি না।’

তবে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা আগের মতোই বহাল থাকবে।

গত বছর পে কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ ও পরে মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত বেতন কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বহুকাল যাবত ভোগ করে আসা  মর্যাদা কেড়ে নেওয়া ও বেতন কমানোর প্রতিবাদে কঠোর আন্দোলন শুরু করেন।

সরকারি কলেজ শিক্ষকরাও আন্দোলন  করেন।

সাবেক আমলা মোহাম্মদ ফরাসউদ্দীনের পে কমিশনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য যে শর্তযুক্ত সুপারিশ করা হয়েছিল গতকাল ৮ম বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশকালঅব্দি তা-ই ঠিক থাকলো বলে মনে হচ্ছে ।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারেরই দেওয়া ৭ম বেতন কাঠামোয় কোনও আন্দলন ছাড়াই এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নতুন বেতন স্কেলভুক্ত হয়েছিলেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেও নতুন স্কেলে বেতন-ভাতা পাওয়া নিয়ে মতামত জানতে চাইলে কয়েকজন শিক্ষক নেতা দৈনিকশিক্ষাডটকমকে বলেন যে, তারা কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না।

প্রবীণ শিক্ষক নেতা ও বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান বলেন, কোনও শর্ত ছাড়াই নতুন পেস্কেলভুক্ত করতে হবে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের।

তিনি বলেন, ‘সরকার যদি বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি শিক্ষকদের ন্যায় বেতন, বাড়ীভাড়া ও অন্যান্য সুবিধা দেয় তাহলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উপার্জন সরকারি কোষাগারে জমা দিতে কোনও দ্বিমত নেই’।

“আমি শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবো তিনি যেন অতি দ্রুত বিষয়টি খোলাসা করেন। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও শিক্ষামন্ত্রীর কথা বলা উচিত।”

মাজহারুল হান্নান বলেন, কয়েকমাস আগে মন্ত্রীসভা কমিটিতে কোনও শর্ত ছাড়াই শিক্ষকদের নতুন বেতনস্কেলভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনার ধারাবাহিকতায় সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল সরকারের শীর্ষমহল বেসরকারি শিক্ষকদের বিষয়ে আন্তরিক ও পজেটিভ।  কোনও আমলা বা ততৃীয় পক্ষ যদি স্থিরীকৃত বিষয়টি নিয়ে টালবাহানা করেন তা হবে ‘মস্তবড়’ ভুল।

অপর প্রবীন শিক্ষক নেতা কাজী ফারুক কোনও মন্তব্য করেননি। গত সাত বছরে সরকারের কাছ থেকে  সকল ধরণের সুবিধা নিয়েছেন কাজী ফারুক। বর্তমানে তিনি একটি এনজিও পরিচালনা করেন।

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সাবেক সদস্য-সচিব অধ্যাপক মো. আসাদুল হকও কোনও মন্তব্য করেননি।

এক প্রশ্নের জবাবে আজ বুধবার দুপুরে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক সদস্য-সচিব অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু দৈনিকশিক্ষাডটকমকে বলেন, প্রকৃতপক্ষে কী হয়েছে তা তিনি অবগত নন। তিনিও বোঝার চেষ্টা করছেন।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষামন্ত্রী ১৮  তারিখ সিলেট থেকে ঢাকাত ফিরবেন এবং রোববার অথবা সোমবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।