ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২

কাপ্তাইয়ে ঢং ঢং শব্দে বেজে চলেছে টাওয়ার ক্লক

প্রকাশ: ২০১৫-১১-০৫ ১৯:২৮:৫২ || আপডেট: ২০১৫-১১-০৫ ১৯:২৮:৫২

আবেগে আপ্লুত কর্মজীবীরা

Kaptai Pic
নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই:
সুউচ্চ টাওয়ার ক্লকটি আবার ঢং ঢং শব্দে বেজে চলেছে। এটি কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলী রেয়ন মিলস্ কেআরসি টাওয়ার ক্লক হিসেবে পরিচিত। এক সময় এ ঘড়ির শব্দ শুনে কর্মজীবিরা তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ছুটে যেতেন। এর বিশেষত্ব হল টাওয়ার চার পাশেই বিশাল আকৃতির ঘড়ি রয়েছে। এটি প্রতি এক ঘন্টা পরপর ঢং ঢং শব্দে বেজে উঠে। প্রায় ৫ কিলোমিটার দূর থেকে এর শব্দ শুনা যায়। কালের বিবর্তনে আজ আর এঘড়ির তেমন কদর নেই। তবে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছে আজও এটি কৌতুহলের বস্তু হয়ে আছে। ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন সরকার কর্তৃক কেআরসিকে পে-অফের মাধ্যমে বন্ধ ঘোষনা করা হলে টাওয়ার ক্লকটিও বন্ধ অবস্থায় অযতেœ অবহেলায় পড়ে থাকে। প্রায় ১৪ বছর পর গত আগস্ট ২০১৫ সালে টাওয়ার ক্লকটি পুনরায় চালু করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে কর্ণফুলী রেয়ন মিলস্ (কেআরসি) প্রতিষ্ঠার পর জাপানী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মিৎসুবিসি স্মৃতি স্বরূপ কেআরসি টাওয়ার ক্লকটি নির্মাণ করে। সে সময় ঘড়ির ব্যাপক প্রচলন না থাকায় এ টাওয়ার ক্লকের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তখন মিলের শ্রমিক কর্মচারীরা এর ঢং ঢং শব্দ শুনেই তাদের কর্মস্থলে ছুটে যেতেন। আবার কাজ শেষে একই নিয়মে কর্মস্থল ত্যাগ করতেন। ফলে এ টাওয়ার ক্লকের সময় দেখেই এলাকার সকলেই সময় নির্ধারণ করতেন। তৎকালীন সময় সুউচ্চ এ টাওয়ার ক্লক দেখে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হয়ে পড়তেন।

দীর্ঘ একযুগেরও অধিক সময় টাওয়ার ক্লকটি বন্ধ হয়ে পড়ে থাকায় এর অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। সম্প্রতি কর্ণফুলী পেপার মিলস্ (কেপিএম) লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোছাব্বেরুল ইসলামের আগ্রহে কেপিএম ইনষ্ট্রুমেন্ট অনু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কারিগরি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আহমেদ হোসেন সপু টাওয়ার ক্লকটি পুনরায় চালু করেন। ঊর্ধ্বতন কারিগরি কর্মকর্তা সপু বলেন, ঘড়িটির পুরনো সমস্ত যন্ত্রাংশ ফেলে মাত্র এক ইঞ্চি সমপরিমানের আধুনিক মেশিনটি তিনি নিজেই তৈরী করেন। প্রতিষ্ঠা কালীন সময়ে যেভাবে ঘড়ির সময় ও ঢং ঢং আওয়াজ শুনা যেতো, তা এখনো শুনা যাচ্ছে। টাওয়ার ক্লকটি চালু হওয়ায় শ্রমিক কর্মচারীদের অনেকেই পুরনো স্মৃতির কথা মনে করে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছে। টাওয়ার ক্লকটি সচল হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য লোকজন ঘড়িটি এক নজর দেখার জন্য মিল এলাকায় আসছে।