ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

ঈদগাঁও আলমাছিয়া কেন্দ্রের জেডিসি পরীক্ষায় ১২ পিএসসি পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যত কোনদিকে?

প্রকাশ: ২০১৫-১১-০৩ ২১:২৬:৪১ || আপডেট: ২০১৫-১১-০৩ ২১:২৬:৪১

সরকারের শিক্ষানীতি কলুষিত :

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আজাদ, ঈদগাঁও:
সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে হঠাৎ প্রতিষ্ঠিত ক্যাডেট মাদ্রাসা নামের এক প্রতিষ্ঠানে পার্শ্ববর্তী একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে পিএসসি পাশ হওয়া শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে তথা বই, মাসিক ফি এমনকি পরীক্ষার ফি পর্যন্ত ফ্রি দেয়ার আশ্বাসে ২০/২৫ জন ভর্তি করিয়ে পার্শ্ববর্তী ঈদগাঁও শাহ জব্বারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারের সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রেজিষ্ট্রেশন পূর্বক জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এদিকে পিএসসি পাশ হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা ইতিপূর্বে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ঐসব পিএসসি পাশ হওয়া শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে লিখিত জানানোর জন্য জব্বারিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মনছুর আলমকে তাগিদ দেয়ার পরও কর্ণপাত করেনি ঐ সুপার। ফলে নির্দ্বিধায় ৮ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় দৈনিক সৈকতসহ একাধিক পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশিত হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে ঐসব শিক্ষার্থীদের স্বনাক্ত করার নির্দেশ দেন। ৩ নভেম্বর অধ্যক্ষ যথারীতি পরীক্ষার হলে গিয়ে ঐসব শিক্ষার্থীদেরকে তাদের পিএসসি পাশ হওয়া সনদ কিংবা ডকুমেন্ট নিয়ে আসতে বলে। ফলে পিএসসি পাশ করে এক বছরের ব্যবধানে জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরাও দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে। তাদের দাবী, কতিপয় মাদ্রাসার সুপার বিশেষ করে ক্যাডেট মাদ্রাসার দায়িত্বরত মাওলানা জামাল উদ্দীন ও জব্বারিয়া মাদ্রাসার প্রধান মনছুর আলম কিভাবে তাদের ছেলেদেরকে সেশন বাদ দিয়ে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছে? অভিভাবকেরাও ঐ দুই প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। শেষ পর্যন্ত ঐসব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত কোনদিকে যাচ্ছে তা দেখার বিষয়। পাশাপাশি এলাকাবাসী এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবী জানিয়েছেন। অন্যথায় ভবিষ্যতে পিএসসি পাশ না করেও ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি হতে উৎসাহিত হবে। এক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠান প্রধানেরা মান যাচাইয়ের সুযোগ ও থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন। উল্লেখ্য, নতুন মহাল রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার ২০১৪ সালে পিএসসি পাশ হওয়া ৪ ছাত্র গোলজার বেগম দাখিল মাদ্রাসার ২ ছাত্র ও আলমাছিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার ৬ ছাত্রসহ ১২ জন শিক্ষার্থী বর্ণিত ২ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে চলতি ১৫ সনের জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।