ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২

ঈদগাঁও আলমাছিয়া কেন্দ্রের জেডিসি পরীক্ষায় ১২ পিএসসি পরীক্ষার্থীদের স্বনাক্তের নির্দেশ

প্রকাশ: ২০১৫-১১-০২ ২১:০৮:৪৪ || আপডেট: ২০১৫-১১-০২ ২১:০৮:৪৪

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আজাদ, ঈদগাঁও:

কক্সবাজার-২ঃ ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্রে ২০১৪ সালের ১২ জন পিএসসি পরীক্ষার্থী ঈদগাঁও শাহ জব্বারিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জেডিসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের তথ্য ভিত্তিক সংবাদটি কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক সৈকতসহ একাধিক পত্রিকায়ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ায় অবশেষে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ঐসব শিক্ষার্থীদের পিএসসি পরীক্ষার সনদসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে জমা দেওয়ার জন্য ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের চৌফলদন্ডী নতুন মহাল রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৮৫ জন শিক্ষার্থী পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ভাল ফলাফলও অর্জন করে। তন্মধ্যে নতুন মহাল এলাকার আবুল কাশেমের পুত্র মোহাম্মদ আরমান, নুরুল কবিরের পুত্র আমজাদ, ছৈয়দ আকবরের পুত্র সাইফুল ইসলাম ও চৌফলদন্ডীর আবুল কাশেমের পুত্র বশির আহমদসহ ১০/১২জন ছাত্র পিএসসি পাশের পর হঠাৎ জেগে উঠা পালাকাটা ক্যাডেট মাদ্রাসা নামের এক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়। ঘটনাটি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা বেলাল উদ্দীন ও সহকারী সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আজাদসহ শিক্ষকেরা অবহিত হলে তৎক্ষনাৎ ঐ মাদ্রাসার দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দীনকে উক্ত ছেলেদের ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে পিএসসি পাশ করার পরই ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণীতে লেখাপড়া না করেই হঠাৎ ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি না করাতে অনুরোধ করলেও ঐ মাদ্রাসার প্রধান জামাল উদ্দীন দাপট দেখিয়ে ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি করে। পরে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ মেধাবী ছাত্র রবিউলসহ অনেকে ঐ মাদ্রাসা ছেড়ে নিজ প্রতিষ্ঠানে চলে আসলেও কৌশলে রেখে দেয় বর্ণিত ৪ ছাত্রকে। পরে তাদেরকেসহ অন্যান্য মাদ্রাসার ২০/২৫ জন ছাত্রকে ঈদগাঁও ইউনিয়নের শাহ জব্বারিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে রেজিষ্ট্রেশন করে জেডিসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করাচ্ছে। এছাড়া ঐ ক্যাডেট মাদ্রাসার পিএসসি পরীক্ষায় পাশ না হওয়া এক ছাত্রীসহ ৬ ছাত্রী ও কালু ফকির পাড়া বালিকা মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অপরদিকে ২০/২৫ জন ছাত্রের মধ্যে জেলার একমাত্র মডেল মাদ্রাসা নামে খ্যাত গোলজারীয়া দাখিল মাদ্রাসার ২ ছাত্র খালেকুজ্জামান (রোল নং ৩৪৫৭২২) মিজবাহ (রোল নং ৩৪৫৭২৫) কেও ঐ মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে ২ সেশন বাদ দিয়ে তারাও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এছাড়া ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ২০১৩ সালের পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২ ছাত্রও পালাকাটা ক্যাডেট মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে জব্বারিয়া মাদ্রাসার ছাত্র পরিচয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আবার একই প্রতিষ্ঠান থেকে ৬ শিক্ষার্থী ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এদের পিএসসি পরীক্ষার নাম ও রোল মফিজুর রহমান, পিতা- মোজাম্মেল হক (১৬০২), শহিদুল ইসলাম, পিতা- মোহাম্মদ বাবুল (১৬০৬), মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, পিতা- আবছার কামাল (১৫৯৭), রমজান উদ্দীন, পিতা- নুরুল আলম (১৫৯৯)। এসব শিক্ষার্থীরা জেডিসি পরীক্ষায় পাশ করে জাতি ও দেশের জন্য কি মঙ্গল বয়ে আনবে তা ২ মাদ্রাসার প্রধানরাই ভাল করে জানেন। ইতিপূর্বে ও ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পক্ষ থেকে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে এ সংক্রান্ত বিষয়ে অবহিত করা হলে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিম উদ্দীন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ঐ ছাত্রদের রেজিষ্ট্র্রেশন মাদ্রাসা বোর্ডে গিয়ে বাদ দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠান প্রধান তা না করে কিভাবে এবং কার খুঁটির জোরে এদেরকে জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেয়াচ্ছে তা এলাকার সচেতন মহলসহ শিক্ষক সমাজের দাবী। এছাড়া ইছাখালী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী ও ঐ কেন্দ্রে নাইক্ষ্যংদিয়া এসটি দাখিল মাদ্রাসা থেকে একই কায়দায় অংশ নিচ্ছে। নতুন মহাল রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৪ শিক্ষার্থীর ৬ নং হলে (নাম ও রোল – আমজাদ ৩৪৫৭১৯, আরমান ৩৪৫৭২১, সাইফুল ইসলাম ৩৪৫৭২৩, বশির আহমদ ৩৪৫৭২৪) তদন্ত পূর্বক এদের ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবী জানিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।