ঢাকা, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২

চকরিয়ার কোনাখালীতে ভিজিএফ’র চাউল আত্মসাতের প্রতিবাদে জনতার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

প্রকাশ: ২০১৫-১০-২৯ ১৪:১৩:৩৮ || আপডেট: ২০১৫-১০-২৯ ১৪:১৩:৩৮

download (1)
নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া ::::
চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের জন্য বরাদ্ধকৃত বিশেষ ভিজিএফ এর চাউল আত্মসাতের প্রতিবাদে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জনতা। গতকাল ২৮অক্টোবর সকাল ১১টায় কোনাখালী পরিষদ ও বটতলি এলাকায় এঘটনা ঘটে। অনিয়মের খবরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাহেদুল ইসলাম তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে চাউল বিতরণের সময় ওজনে কম দেওয়ায় হাতে-নাতে ২জনকে আটক করে চকরিয়া থানায় সোপর্দ করেছে। আটককৃতরা হলেন, মৃত গুরা মিয়ার পুত্র রেজাউল করিম (৪৫) ও কাসেম আলীর পুত্র জামাল উদ্দিন (৫১)।

জানাগেছে, সম্প্রতি কয়েকদফা ভয়াবহ বন্যায় চকরিয়ার রাস্তা,ঘাট, বেড়িবাধ ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যাদূর্গত লোকজনের সহায় হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এসব ত্রাণ ও নগদ অর্থ ধারাবাহিকভাবে উপজেলা জুড়ে বিতরণ হয়ে আসছে স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে।

কোনাখালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বটতলি গ্রামের মোতাহেরা, মিনহার, লাইলা, নুর নাহার, খালেদা বেগম, মোবারক খাতুন, হামিদা, ছেনুয়ারা, শাহানা, ফাতেমা, পাখি বেগম, নাসির উদ্দিন, শামসুল আলম, মনির আহমদ ও কুদ্দুছ আহমদসহ বিক্ষুদ্ধ শতশত নারী-পুরুষ মানবন্ধন ও বিক্ষোভকালে জানান, কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার, ইউপি সদস্য যথাক্রমে আবদুন নবী, আবদুর রহিম, মৌলভী আনিছ, মহিলা সদস্যা আছিয়া খাতুন, ইসমত আরা, চৌকিদার শফিউল আলম ও চেয়ারম্যানের সহকারি শহিদু সহ তাদের সহযোগিতার নগদ অর্থ বিতরণের থেকে শুরু করে ভিজিএফ ও ভিজিডি‘র চাল বিতরণে নানাভাবে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে আসছে। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বরাদ্ধের অধীনে মাথা পিছু বা কার্ড প্রতি ২০ কেজি করে ৩দফায় ৬০কেজি ভিজিএফ চাউল বিতরণে আশ্রয় নেওয়া হয়েছে অনিয়মের। প্রথম ২দফার ৪০কেজি করে চাউল বিতরণের সময় অনেকের কাছ থেকে নগদ ৩শত টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এমনকি চাউল বিতরণে দু মাসের ৪০কেজির স্থলে চাল দেওয়া হয়েছে ২৫ কেজি করে। গতকাল ২৮অক্টোবর সকালে ৩য় দফায় ২০কেজি করে চাউল বিতরণের স্থলে প্রতিজনকে দেওয়া হয়েছে ১২থেকে ১৫কেজি করে। এনিয়ে স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ড এমইউপি জাহাঙ্গীর আলম (প্যানেল চেয়ারম্যান), ৭নং ওয়ার্ড এমইউপি শামসুল আলম ও ৮নং ওয়ার্ড এমইইউপি আমির হোসেন দুদু জানান, ভিজিএফ বিতরণে প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান দিদার ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ও উপকারভোগীদের নানাভাবে গালমন্ধ করেছে। এমনকি জাহাঙ্গীর মেম্বারকে নাজেহালও করেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলে তিনি গতকাল বিকাল ৩টার দিকে পরিষদে অভিযান চালিয়ে ওজনে চাল কম দেওয়ার অভিযোগে ২জনকে আটক করেছে থানায় নিয়ে আসে।

ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার বলেন, তার ইউনিয়নের জন্য বরাদ্ধ পাওয়া ২হাজার জন উপকারভোগীর স্থলে কিছু চাউল কম দিয়ে ২৩শত জনকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এখানে চাউল বিতরণের অনিয়মের বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবী করেন।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইউপি সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরাসরি পরিষদে গিয়ে তাৎক্ষনিক বিষয়টি তদন্ত করা হয়। এসময় ভিজিএফ নেওয়া কয়েকজনের চাউল পরিমাপ করে তাতে ২০ কেজী চাউলের স্থলে ১৫ থেকে ১৬ কেজি করে চাউল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন। ফলে চাউল পরিমাপকারী ২জনকে আটক করে নিয়ে এসেছি । ভবিষ্যতে চাউল পরিমাপে কম না দেওয়ার শর্তসাপেক্ষে ওউদিন সন্ধ্যায় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।