ঢাকা, রোববার, ২৬ জুন ২০২২

রঙ্গব্যঙ্গ : বিয়ে সমাচার!

প্রকাশ: ২০১৪-১১-০২ ২৩:১৩:৪১ || আপডেট: ২০১৪-১১-০২ ২৩:১৩:৪১

taslima-mojib
মোস্তফা কামাল
বুড়ো বয়সের বিয়ে নিয়ে নানা মুখরোচক গল্প চালু আছে। বুড়ো বয়সে নারী-পুরুষের বিয়ে করার প্রবণতা যুগ যুগ ধরেই ছিল। কেউ কেউ অবশ্য বলেন, এটা এক ধরনের রোগ। বুড়ো বয়সের রোগ। অনেকে রস করে বলেন, পুরপুরানি, কুরকুরানি রোগ! কিন্তু যাঁরা আগে বিয়ে করেননি, বুড়ো বয়সে তাঁদের বিয়ে করার সাধ জাগতেই পারে; এঁদেরকে কী বলা হবে?

কথায় আছে, দিল্লিকা লাড্ডু খেলেও পস্তায়, না খেলেও পস্তায়। বিয়ে হচ্ছে দিল্লির লাড্ডুর মতো। কেউ বিয়ে করে পস্তায়। আবার কেউ দ্বিতীয়বার করার জন্য নানা ফন্দিফিকির করে। পুরুষরা দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্যই হয়তো এমন প্রবাদ চালু করেছে যে, ভাগ্যবানের বউ মরে, অভাগার মরে গরু। অথচ মেয়েদের বেলায় ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। যে মেয়ের স্বামী আগে মারা যায় তাকে বলা হয় কপালপোড়া মেয়ে!

একবার তসলিমা নাসরিন নারী স্বাধীনতার কথা বলে মহাবিপদে পড়ে গেলেন। তিনি বলেছিলেন, পুরুষরা যদি একাধিক বিয়ে করতে পারে, তাহলে নারীরা কেন পারবে না? ব্যস, শুরু হয়ে গেল বিতর্ক। এই বিতর্কে কিছু মুসল্লি রাস্তায় নেমে গেলেন। তাঁরা দাবি তুললেন, পুরুষবিদ্বেষী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বিচার করতে হবে। সেই থেকে তসলিমা নাসরিনের বিপদ যেন ঘাড়ে চেপে বসল। তারপর ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে একেবারে দেশছাড়া হতে হলো তাঁকে।

আওয়ামী লীগ যখন প্রথম সরকার প্রতিষ্ঠা করল তার কিছুকাল পরই খবর রটে গেল, শেখ হাসিনা সরকারের একজন প্রবীণ মন্ত্রী বিয়ে করতে যাচ্ছেন। সাংবাদিকরা সেই মন্ত্রীকে চাচা সম্বোধন করতেন। তাঁর কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলেন, চাচা, আপনি নাকি বিয়ে করতে যাচ্ছেন?

ওই মন্ত্রী নিজেও বেশ রসিক লোক ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্ন না এড়িয়ে হো হো করে হেসে দিলেন। তারপর হাসতে হাসতেই বললেন, খবর তো শুভ, জিনিস কই?

সাংবাদিকরা বললেন, সে তো আপনি জানেন!

মন্ত্রী মহোদয় আর কোনো কথা না বলে হনহন করে হেঁটে চলে গেলেন।

কিছুদিন পর আবার খবর রটল, মন্ত্রী সাহেবের বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেছে। শিগগিরই তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। সাংবাদিকরাও আবার মন্ত্রী সাহেবকে চেপে ধরলেন, চাচা, আপনি নাকি বিয়ে করছেন?

মন্ত্রী সাহেব ইতিবাচক মাথা নেড়ে বললেন, সিটকিনি আটকানোর জন্যও তো একজন মানুষ লাগে!

উপস্থিত সাংবাদিকরা তখন হো হো করে হেসে উঠলেন। মন্ত্রীকে নিয়ে রটনা তখন ঘটনায় পরিণত হলো। পত্রিকাগুলোও খোঁজখবর নিতে শুরু করল। মন্ত্রী সাহেবের বিয়ে নিয়ে নানা রসের রিপোর্টও আমরা তখন পড়েছিলাম। তবে সেই বিয়ে বেশি দিন টেকেনি।

এবার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়। বরাবরের মতো শেখ হাসিনা এবারও কিছু নতুন মুখ, আবার কিছু থানা-জেলা পর্যায়ের নেতাকেও মন্ত্রী বানিয়েছেন। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক একজন কৃষকের সন্তান। জেলা পর্যায়ের সাদামাটা নেতা। তিনি অবিবাহিতদের সংগঠন চিরকুমার সভার সভাপতি ছিলেন। হঠাৎ তাঁকে নিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট বের হলো, রেলমন্ত্রী বিয়ে করতে যাচ্ছেন। আচমকা এমন খবরে সবারই চোখ কপালে ওঠার দশা! আমরা সবাই অবিশ্বাস নিয়েই বলতে লাগলাম, এই ৬৭ বছর বয়সে মন্ত্রী বিয়ে করবেন? কেন করবেন, কাকে করবেন? এসব প্রশ্ন যখন ব্যাপকভাবে উঠতে শুরু করল তখন মুজিবুল হকের বিয়ে নিয়ে খোদ মন্ত্রিসভার বৈঠকেই উঠল হাসির রোল!

প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং যখন রেলমন্ত্রীর বিয়ের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন তখন শ্রম প্রতিমন্ত্রী উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার একটা কথা আছে।

প্রধানমন্ত্রী বললেন, বলেন বলেন, কী কথা?

শ্রম প্রতিমন্ত্রী বললেন, বিয়ে করছেন রেলমন্ত্রী আর সংসার ভাঙার উপক্রম হয়েছে আমার।

প্রধানমন্ত্রী বিস্ময়ের সঙ্গে বললেন, মানে!

শ্রম প্রতিমন্ত্রী বললেন, মানুষ আমাকে ও আমার স্ত্রীকে টেলিফোন করে জ্বালিয়ে মারছে, আমি নাকি বিয়ে করতে যাচ্ছি।

তখন প্রধানমন্ত্রীসহ কেবিনেটের সবাই হেসে উঠলেন। হাসতে হাসতেই কেবিনেটের একজন সদস্য বললেন, নামে নামে জমে টানে!

রেলমন্ত্রীর বিয়ের খবর মিডিয়ায় আসার কারণে হয়তো শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর ঘর সামলানো গেছে। কিন্তু রেলমন্ত্রীর বিয়ে নিয়ে মুখরোচক আলোচনা যেন তুঙ্গে ওঠে। যেকোনো আলোচনার হাসির খোরাক জোগাচ্ছে এই বিয়ে। নিন্দুকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, এই অসম বিয়ে কত দিন টিকে থাকবে? কেন একটা যুবতীর জীবন তছনছের এই মহাযজ্ঞ!

তবে রসিক লোকেরা অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছেন। তাঁরা রেলমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলছেন, বুড়ো হয়েছে তো কী হয়েছে! তাঁর কি সাধ-আহ্লাদ নেই!

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক