ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

পি কে হালদারকে ফিরিয়ে আনতে একযোগে কাজ করছে ৪ সংস্থা

প্রকাশ: ২০২২-০৫-১৬ ২২:৪৬:১২ || আপডেট: ২০২২-০৫-১৬ ২২:৫৫:১৬

সিএসবি টুয়েন্টিফোর :

হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট ও পাচার করা আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারকে ফিরিয়ে আনতে একযোগে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকারের চারটি সংস্থা।

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি শাখা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি শাখা থেকে ভারতীয় পুলিশের এনসিবি শাখাকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে। তবে কবে নাগাদ তাকে ফিরিয়ে আনা যাবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ইন্টারপোল অথরিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমাদের জন্য খুব ভালো খবর হচ্ছে— ইন্টারপোল অথরিটি খুব দ্রুত রি-অ্যাক্ট করেছে। তারা দ্রুতই আসামিকে ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছে।’

‘তবে তাকে কবে নাগাদ ফিরিয়ে আনা যাবে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ভারতে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে কয়টি মামলা হচ্ছে এবং সেগুলো নিষ্পত্তি হতে কত সময় লাগবে, তার ওপর তাকে ফিরিয়ে আনাটা নির্ভর করবে’, বলেছেন দুদকের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

তিনি আরো জানান, ভারতে মামলাগুলো বিচারে কত দিন লাগবে বা বিচারের আগে ফেরত আনা যাবে কিনা, তা সুনির্দিষ্ট করে বলাটা আসলে সঠিক হবে না।’

দুদক কর্মকর্তারা জানান, পি কে হালদারের বিষয়ে তারা ইতোমেধ্য পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি শাখার মাধ্যমে ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রলায় ও বিএফআইইউকেও এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হবে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারলে তার বিরুদ্ধে আনা হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট ও পাচারের বিষয়ে বিশদ তথ্য জানা যাবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সোমবার (১৬ মে) ভারতে বৌদ্ধ পূর্ণিমার সরকারি ছুটি থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে পি কে হালদারের বিষয়ে কয়টি মামলা হয়েছে এবং কী কী অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা বিস্তারিত জানা যায়নি। মঙ্গলবার (১৭ মে) এসব বিষয়ে জানা যাবে। এদিন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভার্চুয়াল যোগাযোগ ছাড়াও দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং কলকাতায় ডেপুটি হাই কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমেও তথ্য সংগ্রহ করা যাবে।

এদিকে ভারতীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পি কে হালদারকে বাংলাদেশে ফেরত দিতে আগ্রহী। একারণেই বাংলাদেশের তথ্য নিয়ে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের অর্থপাচার ও জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ডিরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট (ইডি)। তবে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ভারতীয় কোনও বিশেষ ব্যক্তির সঙ্গে অর্থপাচার ও জালিয়াতির যোগসূত্র পাওয়া গেলে, ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হতে পারে।

দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, পি কে হালদারকে ফিরিয়ে আনা গেলেও তার ও তার সহযোগীদের মাধ্যমে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনাটা কঠিন হবে। তবে পি কে হালদারকে পাওয়া গেলে এবং ভারতীয় সরকার যদি চায়, তবেই কেবল অর্থও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

গত শুক্র ও শনিবার টানা দুই দিনের অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগরে পি কে হালদার, তার দুই ভাই প্রীতিশ ও পাণেশ হালদারসহ অন্যতম প্রধান সহযোগী সুকুমার মৃধার বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি।

শনিবার পি কে হালদার, প্রীতিশ, উত্তম মিত্র, স্বপন মিত্র ও সুকুমার মৃধার জামাতা সঞ্জীব হাওলাদারকে গ্রেফতারের পর রবিবার তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া পাঁচ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। পি কে হালদার ভারতে গিয়ে শিবশঙ্কর হালদার, উত্তম কুমার মিস্ত্রি উত্তম মিত্র, স্বপন কুমার মিস্ত্রি স্বপন মিত্র নামে জালিয়াতি করে নাগরিকত্বের কাগজপত্র তৈরি করেছিলেন।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউ’র দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ভারতের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট-ইডি এই অভিযান চালায়।

২০১৯ সালে শেষের দিকে পি কে হালদারের অর্থ লোপাটের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর ওই বছরেরই ২৩ অক্টোবর দুদকের পক্ষ থেকে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে এর আগেই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। তারপর থেকে দুদকের অনুসন্ধানে একের পর এক তার অর্থ কেলেঙ্কারির তথ্য- উপাত্ত বেরিয়ে আসে।

আদালতে জমা দেওয়া একটি মামলার অভিযোগপত্রে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অর্থ তিনি তার নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান— ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও পিপলস লিজিংয়ের বিপরীতে ঋণের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন।

সবগুলো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার আত্মীয়-স্বজন ও সহযোগী-সহকর্মীদের ব্যবহার করেছেন।

সিএসবি-টুয়েন্টিফোর; ১৬/৫ঃ(আ-১৩)